Engr. Mohammad Shahiduzzaman
Former MP Coxsbazar,Ramu.
Email: shahidmpcoxs@yahoo.com
WEB Address:shahidmpcoxs3.info
বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা মধ্যকার খেলা দিয়ে আজ আইডিয়া কাপ শুরু
আরিফুর রহমান বাবু শুধু উত্তর বঙ্গ নয়, গোটা দেশ শীতে কাঁপছে। শীতের তীব্রতায় প্রাণহানিও ঘটছে। তার পরও আজ থেকে ক্রিকেট উৎসবেও মাতবে পুরো দেশ। সে উৎসবের আলোক ছটা ৫৫ হাজার বর্গমাইল ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়বে গোটা দক্ষিন এশিয়ায়। আজ থেকে মাঠে গড়াচ্ছে তিন জাতি ক্রিকেট 'আইডিয়া কাপ।' এবারের ক্রিকেটযজ্ঞে স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে আছে ক্রিকেট-র দুই মহাশক্তি ভারত ও শ্রীলঙ্কা। আজ উদ্বোধনী ম্যাচে কুমারা সাঙ্গাকারার লঙ্কান বাহিনীর মুখোমুখি হবে শাকিব আল হাসানের রয়েল বেঙ্গল টাইগার্স।
বাংলাদেশে তিন জাতি টুর্নামেন্ট প্রথম নয়। আগেও হয়েছে। তাও একবার-দুইবার নয়, চারবার। এবার পঞ্চম আয়োজন। তবে এবারের আসর ঠিক এক বছর পর। গত বছর এই জানুয়ারিতেই ঢাকায় বসেছিল তিন জাতি 'গ্রামীণফোন কাপ।' এবার নতুন বছরের শুরম্নতে আবার রাজধানীতে আরেক তিন জাতি টুর্নামেন্ট হচ্ছে। গত বছর ঠিক এই মাসে গ্রামীণফোন কাপ ট্রফি হাতে পোজ দিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মতর্ুজা, কুমারা সাঙ্গাকারা আর প্রসপার উতসেয়া। এবার মাশরাফি আর উতসেয়া নেই। দেশের মাটিতে নিজ দল থাকলেও হাঁটুর অপারেশনের ধকল কাটিয়ে উঠতে না পারায় নেই টাইগার ক্যাপ্টেন। আর উতসেয়ার থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তার দল জিম্বাবুইয়েও নেই। শুধু আছেন কেবল কুমারা সাঙ্গাকারা। লঙ্কান অধিনায়কের সঙ্গে রবিবার সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ট্রফি উন্মোচন পর্বে অংশ নিলেন ভারপ্রাপ্ত টাইগার অধিনায়ক শাকিব ও ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। এই তিনজন কাল সমান অধিকার ও উৎসাহ-আগ্রহ এবং অভিন্ন স্বপ্নে ট্রফি হাতে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন। কিন্তু শেষ পর্যনত্ম এদের কে সাফল্যের হাসিতে ট্রফি জিতবেন সেটাই দেখার। রবিবারের ওই ট্রফি উন্মোচন পর্বে শাকিব ও সাঙ্গাকারার চেয়ে ধোনিই ছিলেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সব ক্যামেরাই ভারত অধিনায়কের দিকেই তাক করা ছিল। আত্মবিশ্বাসী ও উজ্জীবিত ধোনির উঁচু চিবুকের সামনে লঙ্কান ক্যাপ্টেন সাঙ্গাকারাকেও মস্নান মনে হলো। তা হবেই। এই সেদিন ভারতের মাটিতে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে লঙ্কানরা। তার ওপর এ আসরে খেলতে হবে য়িষ্ণু শক্তিতে। বর্ষীয়ান যোদ্ধা জয়সুরিয়া, কুশলী মাহেলা জয়াবর্ধনে, সব সময়ের সেরা অফস্পিনার মুরলিধরন, সময়ের অন্যতম সেরা পারফরমার অজনত্মা মেন্ডিস, এ্যাঞ্জেলো ম্যাথিয়াস ও লাসিথ মালিঙ্গা দলে নেই। এ সব পরীতি ও পরিণত পারফরমারের বদলে খেলতে হবে ক'জন আনকোরা নবীনকে নিয়ে। সে কারণেই শ্রীলঙ্কাকে একটু পিছিয়ে রাখা হচ্ছে। সেটাই স্বাভাবিক। সব হিসেবেই ভারত ফেবারিট। সব সম্ভবের খেলা ক্রিকেটে যদিও শেষ বলে কিছু নেই, তার পরও ভারতকে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট ধরেই শুরম্ন হচ্ছে আইডিয়া কাপ। লঙ্কানরা পুরো শক্তিতে থাকলে হয়ত অপর ফাইনালিস্ট নিয়েও কোন বিতর্ক থাকত না। তবে এখন একটা প্রচ্ছন্ন সংশয় আছে, যা বাংলাদেশের প।ে এ কারণেই টাইগার কোচ জেমি সিডন্স এ আসরকে ওপরে ওঠার অনুকূল ত্রে বলে অভিহিত করেছেন। ক'জন নতুন ক্রিকেটারে গড়া শ্রীলঙ্কার বিরম্নদ্ধে আজ তাই বাংলাদেশ আগের মতো শতভাগ আন্ডারডগ নয়।
চালের বাজার অস্থির
দোহাই দিয়ে চালের মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। আনত্মর্জাতিক বাজারসহ পাশর্্ববর্তী দেশ ভারতে মূল্য বৃদ্ধি, মূল্য বাড়লে কৃষক পাবে, অভ্যনত্মরীণ উৎপাদন কম, সরকারীভাবে চাল কেনা ও চোরাই পথে চাল আসা বন্ধের খবর ছড়িয়ে পুরো চালের বাজারকে অস্থির করে তোলা হয়েছে। গুটিকয়েক বড় ব্যবসায়ী নেপথ্যে এ ধরনের কাজ করছে। ফলে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সকল উদ্যোগ ভেসত্মে যাচ্ছে।
পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী, আড়ত মোকাম ও বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর নতুন ফসল ওঠার পর চালের বাজারে প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে দাম কমে আসে। কিন্তু ওইসব দোহাই দিয়ে পরিস্থিতি পুরো পাল্টে দেয়া হয়েছে। মূল্য হ্রাসের জায়গায় নতুন করে দাম বেড়েছে।
দেশের ধান চালের সবচেয়ে বড় মোকাম নওগার আড়ত সূত্রে জানা গেছে, নতুন ধান ওঠার পর প্রতি মণ মোটা চালে ২শ' টাকা বেড়েছে। শনিবার নওগাঁর মোকামে মণপ্রতি ৯৫০ টাকায় মোটা চাল বিক্রি হয়েছে। ওই হিসাবে এক কজি মোটা চালের মূল্য হচ্ছে ২৫.৭৫ টাকা। ওই চাল ঢাকার খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৭ থেকে ২৮ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা পাঁচটি দোহাই দিয়ে মূল্য বাড়িয়ে চালের বাজার থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সরকারীভাবে বলা হচেছ দেশে পর্যাপ্ত চালের মজুদ আছে। বিশেষ করে সরকারের হাতে ১২ লাখ টন খাদ্য মজুদ আছে। আনত্মর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেলেও এর কোন প্রভাব চালের বাজারে পড়ার কারণ নেই। কিন্তু ব্যবসায়ীরা ওইসব দোহাই ব্যবহার করে চালের বাজার সহনশীলতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে।
আনত্মর্জাতিক বাজারে সম্প্রতি চালের মূল্য বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম রয়েছে পাকিসত্মানে। পাকিসত্মানে এক মেট্রিক টন চালের মূল্য হচ্ছে ৫শ' ডলার। ওই মূল্যে চাল আমদানি করতে হলে দেশে পেঁৗছতে প্রতি কেজির মূল্য হবে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা। কতিপয় ব্যবসায়ী এই হিসাব বাজারে ছড়িয়ে দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের প থেকে বলা হচ্ছে আনত্মর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কারণে এই মুহূর্তে সরকারী ও বেসরকারীভাবে চাল আমদানি সম্ভব নয়। চালের চাহিদা পূরণ করতে হবে অভ্যনত্মরীণ উৎপাদন দিয়ে। এই হিসাব কষে চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে ভারতে চালের উৎপাদন কমের কারণে ওই দেশে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান ভারতে এক কেজি মোটা চাল খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮ রম্নপী। ওই হিসাবে দেশীয় টাকায় দাঁড়ায় ৩০ টাকার ওপরে। মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সীমানত্মপথ দিয়ে চোরাইভাবে চাল আসা বন্ধ হয়েছে। নওগাঁর পাইকারি বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, চোরাই পথে চাল আসা বন্ধের কারণে বাজারে প্রভাব পড়েছে। এ কারণেও মোটা চালের দাম বেড়েছে। এছাড়া ভারতের চালের মূল্যে ওপর অনেকটা নির্ভর দেশের চালের বাজার। সেখানে মূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশের পাইকাররা চালের মূল্য বৃদ্ধি করেছে।
এদিকে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী মূল্য বৃদ্ধির ঘটনাকে জায়েজ করতে কৃষকের ন্যায্যমূল্যকে সামনে টেনে আনছে। চালের মূল্য বাড়লে কৃষক উৎসাহ পাবে এমন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। মূলত অনেক কৃষক তাদের উৎপাদিত ধান বিক্রি করে দিয়েছে। মিল মালিকরা এসব ধান কিনে মজুদ করছে। তারাই মূল্য বৃদ্ধির সামনে কৃষকের মূল্য পাওয়ার বিষয়টি বেশি করে প্রচার করছে।
কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পায় এ ব্যাপারে খাদ্য মন্ত্রণালয় দীর্ঘ মেয়াদী একটি পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে। বিশেষ করে সরকারীভাবে ধান ও চাল কেনার প্রক্রিয়া পরিবর্তন এনে কৃষকের মূল্য নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে। ফলে এ বছর আমন কাটা শুরম্ন হলেও খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে মূল্য ঘোষণা করা হয়নি। কেনার জন্য সরকারী লোকজন মাঠে নামেনি। এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষককে উপযুক্ত মূল্য দিতে কেনাকাটার পদ্ধতির পরিবর্তন আনার ব্যাপারে খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বেশ কয়েকবার দেশের অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যনত্ম সুনির্দিষ্ট কোন সিদ্ধানত্মে আসা যায়নি। এ কারণে এখন পর্যনত্ম ধান ও চাল কেনার মূল্য ঘোষণা ও কেনাকাটা করা হয়নি।
এদিকে সরকারীভাবে কেনাকাটা হচ্ছে না এই ঘটনাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা চালের বাজারে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী চালের বাজারে এই গুজব ছড়িয়ে এক ধরনের প্যানিক সৃষ্টি করে মূল্য বাড়াচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মূল্য বৃদ্ধির নেপথ্যে সবচেয়ে বেশি দোহাই দিচ্ছে উৎপাদন কম হওয়াকে। এ বছর দীর্ঘ খরার কারণে আমনের উৎপাদন কম হবে এমন আশঙ্কা করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বু্যরো। অনেক অঞ্চলে ধানের উৎপাদন কম হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা চালের মূল্য বাড়াচ্ছে।
এ ব্যাপারে নওগাঁর ধান চাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি নিরোদসাহা জনকণ্ঠকে জানান, চালের মূল্য নতুন ধান ওঠার পর থেকে এ পর্যনত্ম মণপ্রতি ২শ' টাকা বেড়েছে। উৎপাদন কমের কারণে অনেক কৃষক ধান ধরে রেখেছে। ফলে ধানের দামও বাড়ছে।
সম্পাদকঃ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম । পরিচালনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম। প্রধান সড়ক, ( পাবলিক লাইব্রেরী মার্কেট ) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
ফোনঃ সম্পাদক ০১৫৫৪৩৩৯২৮৬, ০১১৯৫০৭৮৫১২ পরিচালনা সম্পাদকঃ ০১৮১৬৩৬২৭৪১, বিজ্গাপন/সার্কুলেশনঃ ০১৮১৭-২৫৪৮৬৪, ০১৮১৮২০৫৭৫৭, ০১১৯০৯০০১০৬