কক্সবাজার পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় গতকাল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬ জন পেশাদার ছিনতাইকারী ও ১৭ জন মাদকসেবীসহ মোট ৩০ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
পর্যটন শহর ও এর আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং মাদকের দৌরাত্ম্য রোধে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৬ জন চোর-ছিনতাইকারী, ১৭ জন মাদক সেবনকারী, ৪ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ২ জন ধর্তব্য অপরাধের আসামি এবং ১ জন নিয়মিত মামলার আসামি রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
গ্রেপ্তারকৃত ৬ ছিনতাইকারী হলেন, কক্সবাজার পৌরসভার বাদশা ঘোনার আবদুল্লাহ (২২), ঘোনার পাড়ার রায়হান (২৪), সুইপার কলোনীর সূমী ধর (৩০), কালুর দোকান (পাহাড়তলী) এলাকার আকাশ চন্দ্র দাস (২৫), খুরুশকুলের জাহিদ হাসান (২৫) এবং চৌফলদন্ডীর মাইজ পাড়ার আসিফ (২১)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত এই ৬ জনের বিরুদ্ধেই কক্সবাজার সদর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি, চুরি ও হামলার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ১৭ মাদকসেবী মধ্যে রয়েছে, কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার জাহেদুল ইসলাম মান্না (৩০), ইসলামপুরের জাকির হোসেন (২৪) ও মোহাম্মদ জাবেদ (২৫), জিয়ানগর পাহাড়তলীর মোহাম্মদ ইসমাইল (২৩), বাদশা ঘোনার সাইফুল ইসলাম (২০), জাফর আলম (২৩) ও নুরুল হাকিম (৩২), পাহাড়তলীর মোঃ আমির মিয়া (২০) ও মোঃ তোফায়েল (১৯), খুরুশকুলের মোঃ রাসেল (১৯), পিএমখালীর মোঃ মামুন (২১) এবং লাইট হাউস এলাকার রমজান আলী প্রকাশ রানা (২৮)।
এছাড়া টেকনাফের রাকিবুল হাসান রকিব (২২), মোহাম্মদ ইফাছ (২৩), এনাম উল্লাহ (২৩) ও মোহাম্মদ বোরহান (২২) এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার জাহেদুল ইসলামকে (২২) মাদক সেবনের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ওয়ারেন্টভুক্ত ৪ আসামি হলেন- কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলীর দেলোয়ার হোসেন প্রকাশ দিলু (৪৫), উত্তর নুনিয়াছড়ার মোঃ আব্দুল শুক্কুর, বাস টার্মিনাল লার পাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) এবং চৌফলদন্ডীর আসিফ (২১)।
এছাড়া ধর্তব্য অপরাধে মহেশখালী কুতুবজোমের (বর্তমানে ফিশারী ঘাট এলাকার বাসিন্দা) দুই ভাই মোঃ বাবু প্রকাশ বাবুল (২৪) ও মোঃ শুক্কুর আলীকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে নিয়মিত মামলায় পিএমখালী গোলারপাড়া এলাকার লিয়াকত আলীকে (৬২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।