কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ সিফাতকে (২৬) টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব-১৫ ও র্যাব-৭ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফের মহেশখালীয়া পাড়া বটতলী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল' অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত সিফাত পেকুয়া থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
মামলার এজাহার ও র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, পেকুয়ার এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর ঘরের দরজা খোলাকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ববর্তী ঘটনার জেরে আসামি সিফাত ও তার সহযোগীরা বাদীর পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এর জের ধরে গত ২৬ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিফাত, নাজেম উদ্দিন, মোহাম্মদ বাহাদুরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদীর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
এ সময় আসামিরা ধারালো কিরিচ, লোহার হাতুড়ি ও রড দিয়ে বাদীর পিতা এবং বাদীর ওপর এলোপাতাড়ি আক্রমণ করে তাদের মারাত্মক জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় পিতা-পুত্রকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাদীর পিতাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ২৮ জুন নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পেকুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান আসামি মোহাম্মদ সিফাত গ্রেপ্তার এড়াতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল। সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব নিশ্চিত হয় যে, সে টেকনাফ এলাকায় অবস্থান করছে।
এরপর র্যাব-১৫ (টেকনাফ কোম্পানি) এবং র্যাব-৭ (চট্টগ্রাম)-এর যৌথ আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মহেশখালীয়া পাড়া বটতলী বাজারস্থ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।