‘আমার শহর, আমরাই পরিষ্কার রাখব’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজার পৌরসভায় এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্ন্যান্স প্রজেক্টের (ইউডিজিসিপি) আওতায় ‘সিবিপি ক্লিন-আপ ড্রাইভ ২০২৬’ শীর্ষক এই জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজার পৌরসভার মাধ্যমে পাইলট স্কিম হিসেবে শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
শনিবার সকালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সায়মন পয়েন্ট থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের পরনে ছিল ‘ক্লিন ইট আপ’ লেখা সাদা টি-শার্ট ও ক্যাপ। তাঁরা শহর পরিচ্ছন্ন রাখার বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা সংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে র্যালিতে অংশ নেন। র্যালি শেষে স্থানীয় দুটি মজা পুকুর পরিষ্কার করার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
এই বর্ণাঢ্য র্যালি ও কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "কক্সবাজার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা। এখানে সারা বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক আসেন। পর্যটন ব্যবসাকে প্রসারিত করতে এবং পর্যটকদের সুন্দর পরিবেশ উপহার দিতে আমাদের উচিত এই শহরটিকে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। পৌরসভার নিজস্ব জনবল ও যন্ত্রপাতি দিয়ে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে শুধু পৌরসভার ওপর নির্ভর করলে হবে না, স্থানীয় জনসাধারণকেও এগিয়ে আসতে হবে।"
ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, "নিজের বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে আমরা ডেঙ্গুসহ অন্যান্য রোগজীবাণু প্রতিহত করতে পারি এবং আমাদের সন্তানদের সুস্থ রাখতে পারি।"
তিনি আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক আমরা প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছি। মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতেই জাইকা ও পৌরসভার উদ্যোগে আজকের এই র্যালি ও মজা পুকুর পরিষ্কারের কর্মসূচি। আসুন, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা কক্সবাজারকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব শহরে রূপান্তর করি।"
জানা গেছে, এলজিইডি ও জাইকার অর্থায়নে গত ২ বছর আগে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পুরো দেশের মাত্র ৪টি পৌরসভাকে এই মেগা প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কক্সবাজার অন্যতম।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মো. শামীম আল ইমরানের সভাপতিত্বে এবং পৌর কর্মকর্তা শামীমা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। সভায় কক্সবাজার শহরের গুরুত্ব বিবেচনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিতিদের মাঝে ডাস্টবিনসহ বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী বিতরণ করা হয় এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।