এইচএসসিও সমমান পরীক্ষার ফলাফল গতকাল ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফলে দেশব্যাপী ফল বিপর্যয় ঘটেছে। অনেকে এবারের ফলাফল যথাযথ এবং প্রকৃত খাতা মূল্যায়ন হয়েছে বলে মানছেনা। জেলার শতভাগ পাশ করা একমাত্র কলেজ রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ। এ কলেজ থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যেই সকলে উত্তীর্ণ হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে তিনটি কলেজে শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে সেখানে কক্সবাজার বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজ একটি।
শনিবার প্রকাশিত ফলাফলে যথারীতি জেলায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয় ঘটেছে। এবারের ফলাফল বিগত ১৩ বছরের মধ্যে পাসের হার সর্বনিম্ন ৪৩.৯৩ শতাংশ। প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই এবার অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তি কমেছে আশংকাজনক হারে। জেলায় মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র ৫৩ জন। গত বছর জেলায় পাশের হার ছিল ৪৫.৩৯ শতাংশ। এ বছর কমেছে তার চেয়েও।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় - কক্সবাজার জেলায় পাসের হার মাত্র ৪৩.৯৩%। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৫৩ জন অথচ গত বছর ছিল ২০৬ জন।
এবার জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ১২ হাজার ৮৪৩ জন। যেখানে ১১ হাজার ৪৫৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। যার মধ্যে ছেলে ৫ হাজার ১৬২ জন আর মেয়ে ৭ হাজার ৫৩৬ জন।
মোট পাসকৃত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজার ৩৪ জন। পাসের হারে পিছিয়ে রয়েছে ছেলেরা। ছেলে পরীর্ক্ষীদের মধ্যে পাস করেছেন ৪১.৩৭% জন আর মেয়েদের পাসের হার ৪৪.৪৫%। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৫৩ জন।
শতভাগ পাস করা রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ ছাড়া ও পাশের হারে জেলায় সবচেয়ে ভালো করেছে কক্সবাজার সরকারি কলেজ। এই কলেজে ১২২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯৪৭ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৪ জন। পাশের হার ৭৭.৪৩ শতাংশ।
রামু ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২২ জন। পাশের হার ৭৫.৮৬ শতাংশ। কক্সবাজার ডিসি কলেজ থেকে ১৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১২১ জন।পাশের হার ৬৪.৩৬ শতাংশ। কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ৯৬৫ জনের পাস করেছে ৮৮১ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে তিনজন।পাশের হার ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ। পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ থেকে ৫৯৯ জনে পাস করেছে ৩০৬ জন। পাশের হার ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ। রামু সরকারি কলেজ থেকে ১০৬২ জনে পাস করেছে ৫৩৯ জন। পাশের হার ৫০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। উত্তরণ মডেল কলেজ থেকে ৬৪ জনে পাস করেছে ৩০ জন। পাশের হার ৪৬.৮৮ শতাংশ।
চকরিয়া সরকারি কলেজ থেকে ১ হাজার ৯৭জনে পাস করেছে ৫০০ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে একজন। পাশের হার ৪৫.৫৮ শতাংশ। উখিয়া সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ৬১০ জনে পাশ করেছে ২৭৩ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে একজন। পাশের হার ৪৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মহেশখালী ডিগ্রী কলেজ থেকে ৩৭২ জনের পাস করেছে ১৬০ জন। পাশের হার ৪৩.১ শতাংশ।
মহেশখালী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ৪৬৬ জনে পাস করেছে ১৮১ জন। পাশের হার ৪০ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজ থেকে ৪৬৬ জনে পাস করেছে ১৮২ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে একজন। পাশের হার ৩৮.২৬ শতাংশ। ডুলহাজারা কলেজ থেকে ৪২৬ জনে পাস করেছে ১৬৩ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে একজন। পাশের হার ৩৮.২৬ শতাংশ। কুতুবদিয়া সরকারি কলেজ থেকে ৫৩৬ জনের পাস করেছে ১৯২ জন। পাসের হার ৩৫.৮২ শতাংশ।
ঈদগাও রশিদ আহমেদ কলেজ থেকে ৩৪৩ জন পাস করেছে ১০৪ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে দুইজন। পাশের হার ৩০.৩২ শতাংশ।
উখিয়া ডিগ্রী কলেজ থেকে ৫০২ জনে পাশ করেছে মাত্র ১৪৪ জন। পাশের হার ২৮.৬৯ শতাংশ।
জেলার এইচএসসিতে ফল বিপর্যয় হওয়া অপরাপর কলেজগুলো হল কক্সবাজার সিটি কলেজ থেকে ৯৩৭ জনের পাস করেছে মাত্র ২৪৭ জন। জিপিএ ৫ পায়নি কোন শিক্ষার্থী। পাশের হার মাত্র ২৬.৩৬ শতাংশ। ফল বিপর্যয় ঘটেছে টেকনাফ সরকারি কলেজে। এ কলেজ থেকে ৭৪১ জনের পাস করেছে ১৯২ জন। কেউ জিপিএ ৫ পাইনি। পাশের হার ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।
বদরখালী কলেজ থেকে ১৭৩ জনে পাস করেছে মাত্র ৪৩ জন। পাশের হার ২৪.৮৬ শতাংশ।
কক্সবাজার কমার্স কলেজ থেকে ১৫৭ জনে পাস করেছে মাত্র ৩৫ জন। পাশের হার ২২.২৯ শতাংশ। মহেশখালীর হোয়ানক কলেজ থেকে ৮৮ জনের পাস করেছে মাত্র ১৯ জন। পাশের হার ২১.৫৯ শতাংশ। কুতুবদিয়া মহিলা কলেজ থেকে ১১৪ জনে পাস করেছে মাত্র ২১ জন। পাশের হার ১৮.৪২ শতাংশ। কক্সবাজার হাভার্ড কলেজ থেকে ৮১ জনের পাস করেছে মাত্র ১০ জন। পাশের হার ১২.৩৫ শতাংশ।
কুতুবদিয়া ধুরুং স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৭৯ জনে পাস করেছে মাত্র ৭ জন। পাশের হার ৮.৮৬ শতাংশ। পাশের হারে জেলার সবচেয়ে খারাপ ফলাফল অর্জন করেছে চকরিয়া সিটি কলেজ। উক্ত কলেজ থেকে ১৩৪ জনে পাস করেছে মাত্র ৯ জন। পাশের হার ৬.৭২ শতাংশ।পাশের হারে জেলার সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে এই কলেজটি।
জেলা প্রশাসক মোঃ আ: মান্নান বলেন, 'শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পড়ালেখা করেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যেও ছিল নানা সমস্যা। আগামী বছর ফলাফল যেন ভালো হয়, পড়ালেখার মান বজায় রেখে শিক্ষার্থীরা যেন চমৎকার ফলাফল অর্জন করতে পারে সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকবে শিক্ষা প্রশাসন। এছাড়া ইংরেজিসহ কয়েকটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে সামগ্রিক ফলাফল খারাপ হয়েছে।'
এদিকে গত ১ দশকের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭০.৩৮%। ২০২২ সালে পাশের হার ছিল ৭৪.৯২%। ২০২১ সালে পাশের হার ৮৬.৮৮ %। ২০২০ সালে করোনার কারণে সবাই অটো পাশ। ২০১৯ সালে পাসের হার ৫৪.৩৯%। ২০১৮ সালে পাসের হার ছিল ৬১.৬৬ %। ২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৫৫.৩২%। ২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৬৪.৮০%।