সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে শনিবার সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রানফরপিস’ শীর্ষক সংহতি দৌড়। ৭.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দৌড়ে শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও যুব নেটওয়ার্কের সদস্যসহ বিভিন্ন বয়সের ৪০০-এর বেশি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
এমবোল্ডেন বাংলাদেশের আয়োজনে এবং একশনএইড বাংলাদেশ, সোসাইটি ফর হেলথ এক্সটেনশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (শেড) ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শনিবার সকাল ৬টায় লাবণী বিচ পয়েন্ট থেকে দৌড় শুরু হয়। নির্ধারিত রুট অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীরা লাবণী বিচ পয়েন্ট থেকে রওনা হয়ে হলিডে মোড়, ঘুনগাছতলা ও নতুন ব্রিজ ঘুরে পুনরায় লাবণী বিচ পয়েন্টে এসে দৌড় শেষ করেন।
আয়োজকেরা জানান, বিভিন্ন পটভূমির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়াতে তরুণদের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক বিভেদ ভুলে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার এক কার্যকর মাধ্যম হিসেবে এই দৌড়কে বেছে নেওয়া হয়।
দৌড় শেষে সকাল সাড়ে ৭টায় লাবণী বিচ পয়েন্টে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নারী ও পুরুষ বিভাগে প্রথম তিনজন বিজয়ীকে যথাক্রমে আর্থিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি সনদ দেওয়া হয়। নারী বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান পুরস্কার জিতেছেন যথাক্রমে- বিপাশা আনোয়ার, নুসরাত জাহান ও ভিওলি তুগাদে হোসেইন। পুরুষ বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান বিজয়ীরা হলেন যথাক্রমে- আশরাফুল আলম, আলেক্স পারভেজ পলাশ ও জাকির হোসেন। পাশাপাশি উভয় বিভাগের সেরা ১০ জন দৌড়বিদকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সরকারের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা শান্তির বার্তা ছড়ানোর এই উদ্যোগকে প্রশংসা জানিয়ে তিনি বিশেষ করে নারী ও শিশুদেরকে নিয়ে
স্বতন্ত্র ম্যারাথন বা দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজনের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তিনি সবাইকে সম্প্রীতি, শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানান।
এসময় রানফরপিসের চেতনা সমাজজুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তনে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন একশনএইড বাংলাদেশ-এর হেড অব হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রাম মো. আব্দুল আলীম এবং শান্তি ও সামাজিক সংহতি গড়ে তুলতে সব অংশীজনকে তরুণদের ক্ষমতায়িত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন একশনএইড বাংলাদেশ-এর ইয়ুথ, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট জাস্টিস টিমের লিড মো. নাজমুল আহসান।
এ ছাড়া অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশ-এর হেড অব ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মো. রফিকুল ইসলাম এফসিএ; শেডের উপপরিচালক আবদুল মান্নান এবং এবং এমবোল্ডেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইনজামামুল হক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।