স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বোঝাপড়া ও সুসম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে কক্সবাজারের উখিয়ার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার তরুণদের নেতৃত্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সংহতি জোরদারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, যুব শান্তি-নির্মাতা, সুরক্ষা খাতের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ১৬ নম্বর ক্যাম্পের যুব শান্তি-নির্মাতা নুর কামাল এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের আন্তঃক্রিয়ামূলক থিয়েটার সহযোগী শানজিদা আক্তার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন শেডের প্রকল্প সমন্বয়কারী এরশাদুল ইসলাম।
পরে প্রকল্পের সঙ্গে নিজেদের পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সংহতি প্রকাশ করেন ১৬ নম্বর ক্যাম্পের যুব শান্তি-নির্মাতা মো. জামিল হোসেন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শান্তি-নির্মাতা মো. আনোয়ার। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নুরুল আমিন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন মাঝি আলী হোসেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুরক্ষা খাতের ফোকাল মো. নুরুল আলম। তিনি শান্তি, নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প-ইন-চার্জ (সিআইসি) মোনোয়ার হোসাইন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে তরুণরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত শান্তি ও সামাজিক সংহতির উদ্যোগ দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব কমাতে সহায়ক হতে পারে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংযোগ তৈরি এবং পারস্পরিক আস্থা জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তরুণদের সম্পৃক্ত করে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগ পরিচালনার মাধ্যমে সামাজিক সংহতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ও শেডের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ সংহতি সমাবেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সংহতির বার্তা তুলে ধরা হয়।