বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসছে আরও এক ঘূর্ণিঝড়। এই ঘূর্ণিঝড় ফের একবার ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ, রোববার (১ নভেম্বর) নিজেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত করেছে। এবার সে সাগরে ফুঁসছে, আর ধেয়ে আসছে উপকূলে আছড়ে পড়ার জন্য।
‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ কী?
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’র রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক ঘূর্ণিঝড়ের নিশানায় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ। গত সপ্তাহতেই অন্ধ্রের দিকে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এবার আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। এই ‘মুরাসু’ শব্দটির অর্থ কী? এমন প্রশ্ন অনেকেরই মনে।
প্রতিবেদন অনুসারে, এটি একটি তামিল শব্দ, যার অর্থ হলো ড্রাম বা রণঢাক জাতীয় বাদ্যযন্ত্র। এই বাদ্যযন্ত্র দিয়ে দুর্যোগ সম্পর্কে বা কিছু ঘোষণা করতে, সবাইকে সচেতন করা হয়ে থাকে। অনেক সময় এটিকে যুদ্ধ বাদ্য হিসেবেও ধরে নেওয়া হয়। সঙ্গম সাহিত্য ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মুরাসু মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে।
এর মধ্যে একটি হলো, বীরা মুরাসু, যা যুদ্ধের উদ্দেশে ব্যবহৃত রণদামামা বা সামরিক ড্রাম হিসাবে ব্যবহৃত হতো। আরেকটি হলো, ত্যাগা মুরাসু। এটি উপহার দেয়া বা দরিদ্র মানুষদের খাদ্য ও সামগ্রী দেয়ার আহ্বানে ব্যবহৃত বাদ্য। তৃতীয়টি, ন্যায় মুরাসু। এটি মূলত, বিচারকার্য পরিচালনা এবং জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র।
ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র নামকরণ করেছে ভারত।
ঘূর্ণিঝড়টির বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) তাদের সবশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, ১ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থান করছিল। আইএমডি জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার এবং ২ নভেম্বর সকালের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরও তীব্র হয়ে একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এরপর এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর রাত এবং ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী স্থানে একটি তীব্র ঘূর্ণিঝড় রূপে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এই ঝড়ের গতিবেগ উপকূলের দিকে থাকবে, ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। পরে দমকা হাওয়ার বেগ ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পারে। ঝড় মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি চলছে ওড়িশায়। সেখানে মোতায়েন রয়েছে এনডিআরএফ-সহ বিভিন্ন বাহিনী। এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশ এই ঝড় মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২ নভেম্বর থেকে ওড়িশায় বৃষ্টি হবে এবং ৩ ও ৪ নভেম্বর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।