সরকারের একার পক্ষে মানবপাচার কখনো সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকার, বেসরকারি সংস্থা, প্রসিকিউসন, আন্তর্জাতিক সংস্থা, আইনজীবী, আইন সহায়তাকারী সংস্থা, সামাজের নেতা, সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীদার সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাহলেই মানবপাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বুধবার (১১ মার্চ) 'জেলা পর্যায়ে মানবপচার প্রতিরোধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক, পিপি, আইনজীবী এবং সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় সভায়' প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারে ১৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরনার্থীর বসবাস, ভৌগলিক অবস্থান, সীমান্ত অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ইত্যাদি কারণে মানবপাচারের জন্য কক্সবাজার জেলা একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এজন্য এ অঞ্চলে মানবপাচার প্রতিরোধে আইনী কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, কক্সবাজারে একটি পৃথক মানবপাচার ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর আর্থিক সহায়তা এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএনডাব্লিওএলএ) এর কারিগরি সহায়তায়
কক্সবাজার জেলা জজ ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্মসচিব ড. আবুল হাসনাত বলেন, মানবপাচার মামলা দ্রুত তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সরকার আইনগত ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করছে। মানবপাচার আইনকে আরো আপডেট করেছে। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের মতবিনিময় সভা মানবপাচার মামলার বিচারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা, চ্যালেঞ্জ গুলো চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
সভায় পুলিশ সুপার আ.ন.ম সাজেদুর রহমান বলেন, মানবপাচারের মামলা গুলো তদন্ত করা খুবই ব্যয়বহুল। যথাযথ তদন্তের প্রয়োজনে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অনেকসময় বিদেশেও যাওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী সাপোর্ট পাননা। প্রয়োজন হলেই বিদেশ যেতে পারেননা।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ আবু হানিফ, কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিদ্দিক, কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার উদ্দিন হেলালী, পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পিপি অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু, লিগ্যাল এইড এর প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌহিদুল এহেসান প্রমুখ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জহুর। সভায় বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য রাখেন, বিএনডাব্লিওএলএ এর কেইস ম্যানেজমেন্ট কোঅর্ডিনেটর শাফায়াত বিন কামাল, আইওএম এর কাউন্টার ট্রাফিকিং এসোসিয়েট মো: মোস্তফা আরাফ এবং আইওএম এর ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর সারা সাদিয়া ইসরাত ও বিএনডাব্লিওএলএ এর প্যানেল ল'ইয়ার অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ ভৌমিক।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক রোকেয়া বেগম, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী, এপিবিএন এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, সিনিয়র সিভিল জজ বেলাল উদ্দিন, সিনিয়র সিভিল জজ রুহুল আমিন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউনুস, কোর্ট ইন্সপেক্টর শাহা আলম প্রমুখ।