যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিনের হামলায়ই তিনি আহত হয়েছিলেন। ওই হামলায় তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়, মুখমণ্ডলেও আঘাত পান।
খবর অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সি খামেনির বাম চোখের চারপাশে কালশিটে দাগ পড়েছে এবং মুখে কিছু ছোটখাটো জখমের চিহ্নও রয়েছে। এর আগে ইসরায়েলের একটি সূত্র জানিয়েছিল গত সপ্তাহে তাকে লক্ষ্য করে একটি হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর থেকেই তার আহত হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
সাইপ্রাসে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা সালারিয়ান ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানকে বলেন, যে বিমান হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন, সেই একই হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হন। ওই হামলায় খামেনি পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য নিহত হন।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বা তার কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি। রাষ্ট্রদূত সালারিয়ানের মতে, আহত থাকার কারণেই তিনি এখনও প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘মোজতবা খামেনি এখন কোনো বক্তব্য দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্র-সম্পৃক্ত ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (ইসনা) বলেন, তিনি শুনেছেন খামেনি আহত হয়েছেন। তবে তিনি নিরাপদ আছেন এবং এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।
মোজতবা খামেনি আগে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা দিতেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তার বাবা আলি খামেনির গড়ে তোলা ক্ষমতার নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং রাজনৈতিকভাবে তিনি বাবার চেয়েও কঠোর অবস্থানের হতে পারেন।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ তাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।