কক্সবাজারে আমন ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে চালের কোটা পূরণ করতে পেরেছে খাদ্য বিভাগ। চাল সংগ্রহে ৬৮ মিল মিলিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল ৪ হাজার ৬৭১ মেট্রিক টন। অভিযান শেষে সংগ্রহ হয়েছে ৬ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন।
যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬৫৯ টন বেশি। সিদ্ধ চালের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৩৮৭ টনের বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ৮৮৭ টন। অন্যদিকে ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, ৭৩৬ মেট্রিক টন। কিন্তু, কর্তন শেষে সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ৩৩০ টন। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৯২ টন বেশি।
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে জেলা থেকে ৮ হাজার মেট্রিক টন ধান ও চাল কেনার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল খাদ্য বিভাগ। তারমধ্য, ধান ৭৩৬ টন, আতপ ৫১২৬ এবং সিদ্ধ ২৩৮৭ মেট্রিক টন। শুরুতে ৩ টন ধান সংগ্রহ হয়েছিল। পরে আবার সময় বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমন সংগ্রহের অভিযানে শতভাগ সফল হয়েছে খাদ্য বিভাগ।
দপ্তরটি আরও জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ধান, আতপ ও সিদ্ধ চালের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ৮ হাজার ২৪৯ মেট্রিক টন। যা গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার ৩১৭ টন কম। গত বছর ছিল ১৪ হাজার ৫৬৬ টি মেট্রিক টন৷ গতবার সরকার ধানের দাম নির্ধারন করেছিলেন, প্রতি কেজি ৩৩ টাকা, আতপ ৪৬ টাকা এবং সিদ্ধ ৪৭ টাকা। কৃষক পর্যায়ে সংগ্রহ কম ও নানা ঝামেলায় সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা পূরণ না হওয়ার কারনে দাম বাড়িয়েছেন সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়। এইবার ধান ক্রয়ের মূল্য নির্ধারন ছিল, ৩৪ টাকা, আতপ ৪৯ টাকা এবং সিদ্ধ ৫০ টাকা।
মিল মালিকেরা বলছেন, 'সরকার ধান ও চাল সংগ্রহের যে মূল্য নির্ধারন করেছে তা বাজারের সাথে পার্থক্য বেশি নয়। লাইসেন্স বাতিল হওয়ার কারনে, অনেক মিল মালিক লোকসানে সরকারের গুদামে চাল বিক্রি করে।'
জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় লাইসেন্সধারী ১ টি অটোমেটিক সিদ্ধ চালকল এবং ৭৮ টি হাস্কিং আতপ চালকল রয়েছে। তারমধ্যে চারটি উপজেলার ৬৮ জন মিল মালিক সরকারের সাথে চাল দেওয়ার চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী ৪ হাজার ৬৭১ মেট্রিক টন চাল। সময়সীমা শেষে মিলারেরা দিয়েছেন ৬ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন। যা চুক্তির চেয়েও বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৯টি উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চলতি আমন মৌসুমে জেলায় রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ৭৮ হাজার ৭৩০ হেক্টর। যেখান থেকে চাল উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন।
জেলা মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল আকতার বলেন, 'সরকার যে দাম নির্ধারন সেটা যথাযথ নয়। কারণ, ৪৯ টাকা দিয়ে চাল দেওয়া কি সম্ভব ? এজন্য সরকারকে দাম বাড়াতে হবে। লোকসান দিয়ে আর ব্যবসায় হয়না। অনেক মিল মালিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।'
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আবু কাউছার বলেন, 'আমন সংগ্রহে এবার খাদ্য বিভাগ শতভাগ সফল হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও সংগ্রহ বেশি হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'এ্যাপসের ঝামেলার কারণে, কৃষকেরা অনেক সময় ধান বিক্রি করতে চায়না। এবার এ্যাপস জটিলতা দেখা দেওয়ায়, সরাসরি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে ধান ক্রয় করা হয়েছে। লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৫৯২ টন বেশি ক্রয় করা হয়েছে।'
গত বছরের ১৮ নভেম্বর আমন সংগ্রহে অভ্যন্তরিণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ সংক্রান্ত জেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।