বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) সার ডিলার নিয়োগে সরকারের নতুন নীতিমালার ফলে কুতুবদিয়ার অর্ধশত খুচরা সার বিক্রেতা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। নতুন নিয়মে জামানতের আকাশচুম্বী হার এবং খুচরা বিক্রেতা পদ বাতিলের সিদ্ধান্তে তাদের জীবিকা এখন হুমকির মুখে।
জানা গেছে, উপজেলায় ৬ ইউনিয়নে ৬ জন ডিলার ও ৫৪ জন খুঁচরা সার বিক্রেতা ছিলেন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ভিত্তিক খুঁচরা সার ও কীটনাশক ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা। সম্প্রতি নতুন নিয়ম ও আকাশচুম্বি জামানতসহ সার ডিলার নিয়োগ আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে গত ৩ মার্চ। আগের নিয়মে একজন ইউনিয়ন সার ডিলার ২ লক্ষ টাকা জামানত দিয়ে ডিলারশীপ পরিচালনা করতেন। ওয়ার্ড ভিত্তিক খুচরা সার বিক্রেতারা ৩০ হাজার টাকা জামানত সাপেক্ষ প্রান্তিক চাষিদের মাঝে সার বিতরণ করত। নতুন আবেদনে প্রতি ইউনিয়নে(৩টি ওয়ার্ড) ৩ জন ডিলার নিয়োগ হবে প্রতিজন ৫ লক্ষ টাকা জামানত দিয়ে। কোন খুঁচরা বিক্রেতা থাকবেনা। নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার তার অধীনের বাকি ২ ওয়ার্ড নিজেই পরিচালনা করবেন। যে কারণে উপজেলার ৫৪ জন খুঁচরা সার বিক্রেতা পড়েছেন বিপাকে।
ধুরুং বাজারের খুঁচরা সার বিক্রেতা মামুনুর রশীদ বলেন, জীবিকার পেশা ধরে রাখতে লোন করে ৫ লাখ টাকা জামানতের মাধ্যমে ৩ ওয়ার্ডের জন্য আবেদন করেছি। এ ইউনিয়নে আরো ৩ ওয়ার্ডে কেউ আবেদন করেনি জামানত বেশি হওয়ায়।
বড়ঘোপ কলেজ গেইটের সাইফুল ইসলাম, হাসপাতাল গেইটে আরিফ উল্লাহ বলেন, বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগে কোন খুঁচরা বিক্রেতার অপশন রাখা হয়নি। ইউনিয়ন ডিলার হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা জামানত দিয়ে আবেদন করার সুযোগ দেয়া হয়েছো। নতুন প্রক্রিয়ায় পুরনো ৬ ডিলারও রেখে আরো ১২ জন খুঁচরা বিক্রেতা ৫ লক্ষ টাকা জামানত দিয়ে ইউনিয়ন ডিলার হিসেবে আবেদন করতে পারবেন। । এত টাকা জামানত দিয়ে তারা ডিলার নিতে পারবেন না। এই ১৮ জনে চাইলে চাহিত ওয়ার্ডে আরো ২ জন করে খুঁচরা বিক্রয় কেন্দ্র চালু করে পরিচালনা করতে পারবেন। বাকি ২৪ জন খুঁচরা বিক্রেতা তদেরা ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।
ধুরুং বাজারে বিসিআইসি ডিলার মঈন উদ্দিন বলেন, নতুন ডিলার নিয়োগ হিসেবে খুঁচরা কোন বিক্রেতা থাকবেনা। উপজেলায় ৫৪ জন খুচঁরা বিক্রেতা ব্যবসা করে আসছে। দোকানে বাকি ও ঋন করা ব্যবসায়িরা ডিলার নিতে না পারলে তারা মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। প্রতি ওয়ার্ডে খুঁচরা বিক্রেতাদের জন্যপ্রয়োজনে জামানত বাড়িয়ে তাদের সার বিতরণে সুযোগ দেয়ার দাবি জানান তিনি।
ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন কুতুবদিয়া শাখার সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, কৃষি মন্ত্রনালয়ের চাপিয়ে দেয়া সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন হলে পূর্বের খুঁচরা বিক্রেতাগণ বেকায়দায় পড়বেন। ইউনিয়ন ডিলারগণ পর্যাপ্ত সার সরবরাহ পেলে কৃষক পর্যায়ে সার পৌছাইতে কোন বিঘ্ন হবেনা। ডিলার বাড়িয়ে সার বরাদ্ধ কি বৃদ্ধি করবে সরকার? ডিলার বাড়ানোর চেয়ে সার বরাদ্ধ বাড়ানো হলে চাষিদের মাঝে সার বিতরণে কোন সমস্যা থাকবে না।অপর দিকে খুঁচরা বিক্রেতাদেরও পথে বসতে হবে না। তিনি বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগে নতুন নিয়ম বিবেচনা করার দাবি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সার ঘাটতি পুরণে ইউনিয়ন পর্যায়ে সার ডিলার নিয়োগ বৃদ্ধি করে এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার তাদের চাহিত ওয়ার্ড ভিত্তিক সার বিতরণ পরিচালনা করবেন। আবেদনে উল্লেখিত সারের গোডাউন ভিন্ন ইউনিয়নে রাখার সুযোগ নেই। যাছাইবাছাই প্রক্রিয়া শেষে উপজেলার জন্য ১৮ জন সার ডিলার নিয়োগ পক্রিয়া শেষ করবেন। নতুন নিয়মে আগের অনেক খুঁচরা সার বিক্রেতাগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এটা ঠিক। তবে ডিলারগণ চাইলে তাদের অধীনের ওয়ার্ডগুলোতে পুরনো খুঁচরা বিক্রেতাদের সুযোগ দিতে পারেন এতে নতুন নিয়মে কোন বাধা নেই বলেও জানান তিনি।