কক্সবাজারের মহেশখালীতে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে ৮টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অস্ত্রগুলো বিশেষ কায়দায় দুই অংশে বিভক্ত করে পলিথিনে মুড়িয়ে পাচার করা হচ্ছিল। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও দুজন পালিয়ে যায়। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ঠাকুরতলা চৌরাস্তা মোড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (৩০ আগস্ট) মহেশখালী থানায় উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট) মো. অহিদুর রহমান পিপিএম এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি হলো- চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণখাইন দীঘির পাড় এলাকার মোতাহের হোসেনের ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩৪) এবং মহেশখালীর ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরতলা এলাকার মৃত মনিন্দ্র দের ছেলে মানিক দে (৩৮)।
# যেভাবে ধরা পড়ল অস্ত্রের চালান:
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, গত ২১ আগস্ট মহেশখালীর শাপলাপুরে পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ একজনকে গ্রেপ্তারের পর থেকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশে মহেশখালীতে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে ছোট মহেশখালীর ঠাকুরতলা চৌরাস্তা মোড়ে চেকপোস্ট ডিউটি করছিল পুলিশ।
এ সময় আদিনাথ জেটিঘাট থেকে বদরখালীগামী একটি সন্দেহভাজন সবুজ রঙের সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। সিএনজিটি ঠাকুরতলা মোড়ে জগন্নাথ ফার্মেসির সামনে থামানোর সাথে সাথেই ভেতরে থাকা চার ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
তখন মহেশখালী থানার পুলিশের আভিযানিক দলটি ধাওয়া দিয়ে মো. রুবেল মিয়া ও মানিক দে-কে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে রাতের আঁধারের সুযোগ নিয়ে অপর দুজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। তদন্তের স্বার্থে পলাতক আসামিদের নাম আপাতত প্রকাশ করছে না পুলিশ।
আটকের পর উপস্থিত লোকজনের সামনে সিএনজিতে তল্লাশি চালানো হয়। সিএনজির ভেতরে থাকা একটি কালো রঙের ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে সাদা ও কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৮টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- ২টি দেশীয় তৈরি রাইফেল, ৫টি একনলা বন্দুক এবং ১টি এলজি।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্রই সচল এবং এতে ট্রিগার ও ফায়ারিং পিন সংযুক্ত রয়েছে। পাচারের সুবিধার্থে সাতটি অস্ত্রকে বিশেষ কায়দায় দুই অংশে বিভক্ত করে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল। এ সময় আসামিদের ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোনও (ইনফিনিক্স ও ভিভো) জব্দ করা হয়।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সুলতান জানান, এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তারা কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে এবং কী উদ্দেশ্যে কার কাছে পাচার করছিল, তা নিয়ে পুলিশের ব্যাপক তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মহেশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজল কান্তি দে বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত দুজন ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মহেশখালী থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৩১) রুজু করেছেন। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে মহেশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রতুল কুমার শীলকে। রোববার (৩০ আগস্ট) গ্রেপ্তারকৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
# পাহাড়ে কারখানা, সমতলে চালান:
অনুসন্ধানে জানা যায়, মহেশখালীতে দেশীয় অস্ত্র তৈরি ও পাচারের একটি বড় সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। মাত্র এক সপ্তাহ আগে গত ২১ আগস্ট শাপলাপুরের মিঠাছড়ি এলাকার পাহাড়ের ভেতর থেকে একটি অবৈধ অস্ত্রের কারখানার সন্ধান পায় পুলিশ। সেখান থেকে অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, পাহাড়ে তৈরি করা এসব অস্ত্রই সিএনজি বা ছোট বাহনে করে সমতলে ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোয় পাচার করা হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলতে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।