বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কারণে টানা পাঁচ দিন ধরে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন–টেকনাফ নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দ্বীপবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সেন্টমার্টিনের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে সাগরে মাছ ধরতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন উপকূলের শত শত জেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে সেন্টমার্টিন–টেকনাফ নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে এখনো নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এতে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন—দুই প্রান্তেই বহু যাত্রী আটকা পড়েছেন।
কেকে পাড়া নৌঘাটের টিকিট বিক্রেতা ফারুক আহমেদ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে এলেই ট্রলার চলাচল আবার শুরু হবে। তবে বর্তমানে উভয় প্রান্তে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যাত্রী আটকা পড়ে আছেন।
সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, এ নৌপথে ২৬টি ট্রলার রয়েছে। রোটেশন পদ্ধতিতে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি ট্রলার চলাচল করে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সব ধরনের যাত্রী পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে।
নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারা। দ্বীপের ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর জুন-জুলাই মাসে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও এবার টানা পাঁচ দিন নৌযান বন্ধ থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। জরুরি কোনো রোগীকে টেকনাফের এপারে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় উদ্বেগও বাড়ছে।
তিনি বলেন, চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের বিকল্প ব্যবস্থায় টেকনাফে আনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনে শাহপরীর দ্বীপে অবস্থানরত কোস্ট গার্ডের বড় ট্রলার ব্যবহার করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
টেকনাফ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সন্তোষ কুমার শীল বলেন, ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় সোমবার অনুষ্ঠিত ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষায় সেন্টমার্টিনের দুইজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিনের পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে আগামী ৮ জুলাইয়ের পরীক্ষাও বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পরে বিশেষ ব্যবস্থায় নেওয়া হবে।
এদিকে সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে দ্বীপে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত নৌযান চলাচল স্বাভাবিক না হলে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে।
তবে ইউএনও এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, আপাতত দ্বীপে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে উপকূলীয় মৎস্য খাতেও। উত্তাল সাগরের কারণে টেকনাফ উপকূলে শত শত মাছ ধরার নৌযান নিরাপদ স্থানে নোঙর করে রাখা হয়েছে। জেলেরা কেউ জাল মেরামত করছেন, আবার কেউ নৌযানের সংস্কারকাজে সময় কাটাচ্ছেন।
সাবরাং মুন্ডার ডেইল এলাকার জেলে লালু মিয়া বলেন, এখন ইলিশ ধরার মৌসুম। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও সতর্কসংকেতের কারণে সাগরে যেতে না পারায় তাঁরা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওবায়দুল হক বলেন, সাগর স্বাভাবিক হলে জেলেরা আবার মাছ ধরতে যেতে পারবেন। বর্তমানে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।