চাঞ্চল্যকর অষ্ট্রেলিয়ান নাগরিককে ধর্ষনের চেষ্টার দায়ে ৩ আসামীকে ১০বছর করে সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড, অর্থদন্ড অনাদয়ে প্রত্যককে আরো এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। একই ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শামীম এ তথ্য জানিয়েছেন।
দন্ডিত আসামীরা হলেন - কলিমুল্লাহ ও ছৈয়দা খাতুনের পুত্র আনছারুল্লাহ (২৪), আবদুল মোনাফ ও ছৈয়দা বেগমের পুত্র আবদুল গফুর (২০) এবং এজাহার মিয়া ও রাবেয়া খাতুনের পুত্র বেলাল উদ্দিন (৩০)। তাদের সকলের বাড়ি কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচারদ্বীপ গ্রামে। দন্ডিত আসামীরা সকলে পলাতক রয়েছেন। রায়ে কাইমুল হক চৌধুরী শামীম নামক একজন আসামীকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্র পক্ষে একই ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মীর মোশাররফ হোসেন টিটু মামলাটি পরিচালনা করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ :
অস্ট্রেলিয়ান নারী পর্যটক Miss. Elesha Brooke Eillot (এলেসা ব্রুক এলিয়ট) ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসেন। তিনি কক্সবাজার বেড়াতে এসে রামু উপজেলার পেঁচারদ্বীপ মেরিন ড্রাইভ রোড সংলগ্ন গুড ভিভবেজ কটেজ (Good Vivbes Cottage) এ উঠেন। ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান নারী পর্যটক মিস. এলেসা ব্রুক এলিয়ট ঘুমে থাকা অবস্থায় ৩/৪ জন লোক কটেজের জানালা ভেঙে কটেজে ঢুকে তাঁকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এসময় এলেসা ব্রুক এলিয়ট শোর চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে ৯৯৯ এ কল করলে রামু থানার হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ এসে এলেসা ব্রুক এলিয়টকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। পুলিশের উদ্যোগে হাসপাতালে ভিকটিমের জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। ঘটনায় জড়িত আসামী কটেজের কেয়ারটেকার আনছারুল্লাহ ও আবদুল গফুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা ও বিচার :
এ ঘটনায় রামু থানার হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই স্বরুপ কান্তি পাল বাদী হয়ে রামু থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নারী মামলা নম্বর : ৭২/২০২১ ইংরেজি। মামলাটি কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর আদালতে চার্জ গঠন করে বিচারকার্য শুরু করা হয়। মামলায় ৬জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, আলামত প্রদর্শন, মেডিকেল রিপোর্ট পর্যালোচনা, সাক্ষীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, যুক্তিতর্ক সহ বিচারের জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য সোমবার দিন ধার্য্য করা হয়। ধার্য্যদিনে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ)/৩০ ধারায় আসামী আবদুল মোনাফ, আবদুল গফুর ও বেলাল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্থ করে প্রত্যেককে ১০বছর করে সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড, অর্থদন্ড অনাদয়ে প্রত্যককে আরো এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। রায়ে হয়েছে। বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শামীম জানান, রায়ে কাইমুল হক চৌধুরী শামীম নামক একজন আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।