ঈদের টানা ছুটিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজারে নিতে স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা। পরিবার-পরিজন নিয়ে সাগর, পাহাড় আর প্রকৃতির মায়াবী সৌন্দর্যে কিছুটা সময় কাটাতে কক্সবাজার হতে পারে এবারের ঈদের সেরা গন্তব্য। এখানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ছাড়াও পাহাড়, ঝরনা, দ্বীপ, বৌদ্ধ বিহার, মন্দির ও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর।
কক্সবাজারে কোথায় ঘুরবেন, কীভাবে যাবেন, কত খরচ হবে— এসব নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
কক্সবাজার কীভাবে যাবেন
সড়কপথে কক্সবাজার যাওয়া সবচেয়ে পরিচিত ও সহজ উপায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে সরাসরি বাস সার্ভিস চালু আছে। সাধারণত নন-এসি বাসে কক্সবাজার ভ্রমণে ভাড়া প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা। আর এসি, স্লিপার বা প্রিমিয়াম বাসে ভাড়া প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৭০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
রেলপথে গেলে ভ্রমণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক হয়। কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসে সরাসরি যাওয়া যায়। বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাড়া প্রায় ৬৯৫ টাকা থেকে ২,৩৮০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত আছে।
আকাশপথে গেলে সবচেয়ে দ্রুত কক্সবাজার পৌঁছানো যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজারে নিয়মিত ফ্লাইট রয়েছে। ওয়ান-ওয়ে ভাড়া সাধারণত প্রায় ৬,০০০ টাকা থেকে ১১,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে। সময় বাঁচাতে চাইলে এটি সবচেয়ে সুবিধাজনক বিকল্প।
কক্সবাজারে কোথায় ঘুরতে যাবেন এবং কী দেখবেন
১. কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত। ১২০ কি.মি. দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এ সমুদ্র সৈকতের বৈশিষ্ট্য হলো পুরো সমুদ্র সৈকতটি বালুকাময়, কাদার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। বালিয়াড়ি সৈকত সংলগ্ন শামুক-ঝিনুকসহ নানা প্রজাতির প্রবাল সমৃদ্ধ বিপণি বিতান, অত্যাধুনিক হোটেল-মোটেল-কটেজ, নিত্য নবসাজে সজ্জ্বিত বার্মিজ মার্কেট সমূহে পর্যটকদের বিচরণে কক্সবাজার শহরে পর্যটন মৌসুমে প্রাণচাঞ্চল্য থাকে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত একটি মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এর রূপ পরিবর্তন করে। শীত-বর্ষা-বসন্ত-গ্রীষ্ম এমন কোনো ঋতু নেই যখন সমুদ্র সৈকতের চেহারা বদলায় না। প্রত্যুষে এক রকম তো মধ্যাহ্নে এর রূপ অন্য রকম। এই সৈকতের কিটকটে (ছাতা) বসে উপভোগ করতে যাবে নীল সাগর, চড়া যাবে ঘোড়ার পিঠে, বিচ বাইকে ও জেড স্কীতে। ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রয়েছে, যেগুলো হল লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট।
লাবণী সৈকত: কক্সবাজারে লাবনী সৈকতের জনপ্রিয়তা অনেক উপরে। অনেকে কক্সবাজারের সবচেয়ে সুন্দর সৈকত বলেন এটিকে। থাকা-খাওয়া, যানবাহন থেকে শুরু করে প্রায় সবই এখানে হাতের কাছে পাবেন। অর্থাৎ যে কোনো মানের সার্বিক ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। নিকটেই শত শত ছোট দোকান পাবেন। সেখানে ঝিনুকের তৈরি উপহার সামগ্রী ও অলংকার বিক্রি হয়। এ ছাড়াও পাওয়া যায় সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণ সহযোগী উপকরণ যেমন হাফ, থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, হ্যাট, ক্যাপ, ছাতা, চশমা ইত্যাদি।
এই সৈকতে সার্ফিং করা ও বীচ বাইক চালানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
সুগন্ধা সৈকত: সমুদ্র স্নানের প্রকৃত স্বাদ নিতে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক সুগন্ধা সৈকত ভ্রমণ করে। সমুদ্রস্নানের পাশাপাশি স্কি-বোটে করে ভেসে বেড়ানোর ইচ্ছাটিও পূরণ করা যায় এখানে। রাস্তার দু’পাশে সামুদ্রিক তাজা মাছের হরেক পদ পরখ করে দেখার শখ কিন্তু অনেকেরই থাকে। এখানে সেই শখ মিটবে আপনার। এই সৈকতে চাঁদের আলোয় হাঁটার চমৎকার পরিবেশ রয়েছে।
কলাতলী সৈকত: কক্সবাজারের আরেকটি পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র। এটা কক্সবাজার শহরের মধ্যে অবস্থিত। বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন মানুষ এখানে ভ্রমণ করতে আসেন, সমুদ্রে গোসল করতে আসেন, আসেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কলাতলী বিচে নানা ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্টসহ আরো অনেক পর্যটন সুবিধা রয়েছে।
যারা প্রথমবার কক্সবাজারে যান, তাদের জন্য এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি স্থান।
দূরত্ব: শহরের কেন্দ্রেই অবস্থিত।
কীভাবে যাবেন: রিকশা, অটোরিকশা কিংবা হেঁটে যাওয়া যায়।
খরচ: রিকশা/ইজিবাইক ভাড়া ২০-৮০ টাকা
সৈকতে চেয়ার: ৩০ টাকা (প্রতি ঘন্টা), ঘোড়া ৫০ থেকে ২০০ টাকা, বিচ বাইক ১০০-২০০টাকা ও জেড স্কীতে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা।
২. হিমছড়ি ও মেরিন ড্রাইভ
কক্সবাজারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য এই মনমাতানো ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে সামান্য কিছু জায়গায় মেরিন ড্রাইভ সাগর ছুঁতে পারেনি। তাই মেরিন ড্রাইভের আসল স্বাদ পাওয়া যাবে দরিয়ানগর থেকে। এখান থেকে টেকনাফ সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত একটানা চলে গেছে এ সড়ক। মেরিন ড্রাইভে ভ্রমণের শুরুতে যাত্রা বিরতি নিন হিমছড়ি। হিমছড়ির পাহাড় চূড়া থেকে পাখির চোখে দেখা যায় এই রাস্তা। আর দিগন্ত বিস্তৃত নীল সমুদ্রও দেখা যায় এখান থেকে। এবার চলুন সামনের দিকে।
হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্র ছেড়ে প্রায় একশ গজ সামনের সমুদ্র সৈকত ভাটার সময় দখল করে নেয় লাল কাঁকড়ার দল। কিছুটা পথ চলার পর নিসর্গের হাতছানিতে হয়ত থমকে দাঁড়াবেন। এখানে রেজুখাল এলাকাটি ছবির মতো। পাহাড় আর সাগরের অপূর্ব মিলন দেখতে চাইলে হিমছড়ি ও মেরিন ড্রাইভের বিকল্প নেই। বৃষ্টির মৌসুমে পাহাড়ি ঝরনাও প্রাণ ফিরে পায়।
দূরত্ব: শহর থেকে প্রায় ১২-১৫ কিলোমিটার।
কীভাবে যাবেন: মোটরবাইক, সিএনজি, ইজিবাইক।
খরচ: মোটরবাইক ৩০০-৫০০ টাকা, সিএনজি ও ইজিবাইক: ৫০০-৮০০ টাকা।
কী দেখবেন: পাহাড়ি ঝরনা, মেরিন ড্রাইভের মনোমুগ্ধকর সড়ক, সমুদ্র ও পাহাড়ের মিলন।
কখন গেলে ভালো: সকাল অথবা বিকেল।
৩. ইনানী সমুদ্র সৈকত
ইনানী সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের তুলনামূলক শান্ত ও পরিপাটি সৈকতগুলোর একটি। পাথুরে অংশ, খোলা সমুদ্র আর কম কোলাহল, এই তিনটি কারণে জায়গাটি আলাদা করে নজর কাড়ে। যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে শান্তভাবে সমুদ্র উপভোগ করতে চান, তাদের কাছে ইনানী খুব প্রিয়। ভোর ও বিকেলে এর সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে।
দূরত্ব: কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার।
কীভাবে যাবেন: জিপ, সিএনজি, ইজিবাইক, মাইক্রোবাস ও মেরিন ড্রাইভের মোটরবাইক।
সম্ভাব্য খরচ: সিএনজি রিজার্ভ ১০০০-১৫০০ টাকা, জিপ: ২৫০০-৩০০০ টাকা।
কী দেখবেন: প্রবাল পাথর, শান্ত সমুদ্র, ছবি তোলার মনোরম স্পট।
কখন গেলে ভালো: ভাটা সময়ে গেলে প্রবাল পাথর ভালোভাবে দেখা যায়।
৪. পাতুয়ারটেক ও লাল কাঁকড়ার সৈকত
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে পাতুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত, যাকে অনেকেই বলছেন ‘নতুন সেন্টমার্টিন’। জোয়ারের সময় পাথরগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকলেও ভাটা নামলেই দৃশ্যমান হয় সারি সারি পাথর, যা পুরো এলাকাকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের মতো এক মনোমুগ্ধকর রূপ দেয়। আর সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার বিচরণ মুগ্ধ করে পর্যটকদের।
দূরত্ব: ইনানীর কাছাকাছি, শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার।
কীভাবে যাবেন: জিপ, সিএনজি, ইজিবাইক, মাইক্রোবাস ও মেরিন ড্রাইভের মোটরবাইক।
সম্ভাব্য খরচ: সিএনজি রিজার্ভ ১০০০-১৫০০ টাকা, জিপ: ২৫০০-৩০০০ টাকা।
কী দেখবেন: প্রবাল পাথর, লাল কাঁকড়া, নির্জন সৈকত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
কখন গেলে ভালো: সকালে অথবা বিকেলে।
৫. টেকনাফ সৈকত ও শাহপরীর দ্বীপ
কক্সবাজারের দক্ষিণ প্রান্তের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে যেতে পারেন টেকনাফ সৈকত ও শাহপরীর দ্বীপে। বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন এবং নির্জন সৈকতগুলোর একটি। টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের রঙিন জেলে নৌকাগুলো ছবির মতো। টেকনাফের এ সৈকতে এসেই শেষ হয়েছে দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটারের মেরিন ড্রাইভ।
দূরত্ব: কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৮৫-১১৪ কিলোমিটার।
কীভাবে যাবেন: সিএনজি, জিপ বা মাইক্রোবাসে।
খরচ: জিপ বা মাইক্রোবাসে রিজার্ভ ৪০০০-৭০০০ টাকা, সিএনজি রিজার্ভ ২৫০০-৩০০০ টাকা।
কী দেখবেন: বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃতি, সীমান্ত এলাকার প্রকৃতি, জেলেপল্লি, জেটি ঘাট।
কখন গেলে ভালো: সকালে রওনা দিলে ভালোভাবে ঘুরে দেখা যায়।
৬. মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির
আদিনাথ মন্দির মহেশখালীর একটি পরিচিত ও ঐতিহাসিক স্থান। পাহাড়ের ওপর অবস্থিত হওয়ায় এখানে গেলে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যও উপভোগ করা যায়। চারপাশের নীরবতা জায়গাটিকে আরও বেশি শান্ত ও গম্ভীর করে তোলে। যারা ভ্রমণে আধ্যাত্মিকতা ও প্রকৃতি, দুটোই খোঁজেন, তাদের জন্য এটি সুন্দর একটি গন্তব্য।
দূরত্ব: কক্সবাজার শহর থেকে নৌপথে প্রায় ১২ কিলোমিটার।
কীভাবে যাবেন: সী-ট্রাক, ট্রলার বা স্পিডবোটে।
খরচ: সী-ট্রাক/ট্রলার ভাড়া ৫০-১৫০ টাকা (জনপ্রতি), স্পিডবোট: ১০০-১৫০ টাকা (জনপ্রতি)।
কী দেখবেন: ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে সুন্দরবনের স্বাদ , আদিনাথ মন্দির, পাহাড়ি পথ, দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ।
কখন গেলে ভালো: সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে।
৭. রামুর বৌদ্ধ বিহার
শান্ত পরিবেশ ও নান্দনিক স্থাপত্যের জন্য রামুর বৌদ্ধ বিহার পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ইতিহাস প্রেমীদের জন্য রামু হতে পারে চমৎকার গন্তব্য। এখানে রয়েছে গৌতম বুদ্ধের ১০০ ফুট লম্বা সিংহশয্যা মূর্তি। রাংকোট বৌদ্ধবিহার কিংবা কেন্দ্রীয় সীমাবিহারও চোখে পড়ে। আর এখানেই রয়েছে কক্স সাহেবের বাংলো। ব্রিটিশ কূটনীতিক ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের নামে কক্সবাজারের নামকরণ। ইতিহাসের টুকরো ছুঁয়ে দেখতে চাইলে এখানে একবার যেতেই হবে।
একই পথে রামকোট বনাশ্রমের পার্শ্বের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। ৯০১ বাংলা সনে স্থাপিত। কথিত আছে রাম-সীতা বনবাসকালে এই রামকোটে অবস্থান করেছিল। তীর্থধামে মন্দিরের পাশাপাশি আলাদা একটিবৌদ্ধ বিহারে ধ্যানমগ্ন ছোট একটি বৌদ্ধমূর্তিও রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, দু’টিধর্ম পাশাপাশি শান্তিতে সহাবস্থানের প্রমাণ স্বরূপ সম্রাট অশোকের সময়ে এই মূর্তি স্থাপিত হয়।
দূরত্ব: শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার।
কীভাবে যাবেন: সিএনজি, অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস।
খরচ: যাতায়াত গাড়ি ভাড়া ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা।
কী দেখবেন: ইতিহাসের গল্প, বৌদ্ধ মন্দির, বিশাল বুদ্ধমূর্তি, শান্ত পরিবেশ।
কখন গেলে ভালো: দিনের বেলায়।
৮. রাবার বাগান
রাবার বাগান কক্সবাজারের প্রচলিত সমুদ্রভিত্তিক ভ্রমণ থেকে একটু আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। সবুজে ঘেরা এই পরিবেশে হাঁটাহাঁটি করলে মন অনেকটাই প্রশান্ত হয়। এখানে তাড়াহুড়ো নেই, আছে স্থিরতা আর প্রকৃতির নরম ছোঁয়া। যারা ভিড়ের বাইরে নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি সুন্দর জায়গা।
দূরত্ব: শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার।
কীভাবে যাবেন: সিএনজি, অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস।
খরচ: যাতায়াত গাড়ি ভাড়া ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা।
কী দেখবেন: সারি সারি সবুজ রাবার গাছের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, পাহাড়, টিলা আর প্রাকৃতিক বনভূমির সৌন্দর্য।
কখন গেলে ভালো: সকালে বা বিকেল।
৯. ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক
কক্সবাজারের ডুলাহাজরায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সাফারি পার্কটি প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণিপ্রেমীদের জন্য অনন্য আকর্ষণ। ২,২২৪ একর পাহাড়ি বনভূমিজুড়ে গড়ে ওঠা এ পার্কে উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণ করে বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, জেব্রাসহ নানা বন্যপ্রাণী।
বিশেষ বাস বা জিপে ঘুরে কাছ থেকে উপভোগ করা যায় প্রাণীকুল ও বিরল গাছপালার অপূর্ব সৌন্দর্য। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে হওয়ায় সহজ যাতায়াতও বাড়িয়েছে এর জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে গেলে জায়গাটি আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। সমুদ্রের বাইরে অন্যরকম একদিন কাটানোর জন্য এটি ভালো একটি পছন্দ।
দূরত্ব: কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার।
প্রবেশ ফি: প্রাপ্তবয়স্কদের জনপ্রতি ৫০ টাকা, ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য প্রবেশ ফি ৩০ টাকা।
কীভাবে যাবেন: বাস ও মাইক্রোবাস।
খরচ: বাস ভাড়া সিট ২৫০ টাকা ও মাইক্রোবাস রিজার্ভ ৫০০০/-
কী দেখবেন: বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, জেব্রা, হরিণ, পাখি, সরীসৃপ ও নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী।
কখন গেলে ভালো: সকালে বা বিকেল।
১০. ফিশ অ্যাকুরিয়াম
সমুদ্রের অজানা রহস্য আর নানা প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণি নিয়ে কক্সবাজারে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের প্রথম সি-একুরিয়াম-রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড। এখানে ৭০ কেজি ওজনের ক্যাটফিশ, ৬৫ কেজির কাছিমসহ গভীর সাগরের প্রায় দুই’শ প্রজাতির বিরল মাছ ও প্রাণি দেখা যায়। ঝাউতলায় অবস্থিত এই একুরিয়ামটি বিভিন্ন জোনে সাজানো, যেখানে সমুদ্র তলদেশের জীবন্ত পরিবেশ তুলে ধরা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি, শপিং সুবিধা ও শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিনোদনের পাশাপাশি এটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র। সাগরতলের অজানা জগত জানতে শিশুদের নিয়ে যেতে পারেন এই ফিশ অ্যাকুরিয়ামে।
দূরত্ব: কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকায়।
প্রবেশ ফি: জনপ্রতি ১৫০-৩০০ টাকা।
খরচ: রিকশা/ইজিবাইক ভাড়া ২০-৮০ টাকা।
কী দেখবেন: সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ, প্রবাল ও জলজ প্রাণী
কখন গেলে ভালো: দুপুর বা বিকেল।
কক্সবাজার ভ্রমণে সতর্কতা:
কক্সবাজার সৈকতে সমুদ্রস্নানের সময় ভোটার ভাটার গতি প্রকৃতির প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। সামান্য অবহেলার কারণে ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দূর্ঘটনা। সাঁতারে দক্ষ না হলে সমুদ্রের বেশি দূর পানিতে না নামাই ভালো।
সমুদ্রস্নানে দূর্ঘটনা এড়াতে পরামর্শ নিতে পারেন সি-সেই লাইফ গার্ড সংস্থার। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ (ফোন : ০১৭৬৯-৬৯০৭৩২)।
এছাড়াও পর্যটকদের হয়রানি রোধে সার্বক্ষনিক নিয়োজিত থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। চাইলে সমুদ্রসৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবনী পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্রে যেকোন বিষয়ে অভিযোগ করতে পারবেন।