ভারতের প্রখ্যাত আলিম, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের নির্বাহী সদস্য এবং শাহ ওয়ালিউল্লাহ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক শায়খ খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী বলেছেন, ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. ছিলেন, উপমহাদেশের ইসলামী পুনর্জাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থপতি। তিনি ছিলেন একজন বিশ্ববরেণ্য মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফকিহ, দার্শনিক, সমাজসংস্কারক এবং রাষ্ট্রচিন্তক। কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, উম্মাহর ঐক্য সুদৃঢ়করণ, কুসংস্কার ও গোঁড়ামি দূরীকরণ, শিক্ষা-সংস্কার, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজ গঠন এবং সমাজ সংস্কারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সমকালীন বিশ্বে মুসলিম উম্মাহ যখন নানামুখী আদর্শিক বিভক্তি, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, নৈতিক সঙ্কট এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ রহ. এর চিন্তাধারার বাস্তবায়ন সময়ের অনিবার্য দাবি।
রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার পাবলিক হল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত “ইমাম সমাজ সংস্কারে শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. এর চিন্তাধারা ও অবদান” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
"আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস (কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড) ঈদগাঁও, রামু ও কক্সবাজার সদর"- এ সেমিনারের আয়োজন করে।
আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ'র সহ-সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি “শিক্ষাব্যবস্থা : নৈতিক মানুষ ও আদর্শ সমাজ গঠনের ভিত্তি” শীর্ষক বিষয়ে আলোকপাত করেন। বিশেষ আলোচক হিসেবে জামিয়াতুন নূর আল ইসলামিয়া বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ও আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ'র মহাসচিব
আল্লামা ওবাইদুল্লাহ হামযাহ। তিরি “জনঅধিকার বাস্তবায়নে বিচারব্যবস্থার প্রাসঙ্গিকতা” বিষয়ে বক্তব্য দেন।
এছাড়াও বিশেষ অতিথির রাখেন, ঢাকা মাদরাসা দারুর রাশাদের মুহতামিম আল্লামা সালমান নাদভী এবং মাদরাসা দারুর রাশাদের শিক্ষা পরিচালক ও দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র সহ-সম্পাদক মাওলানা লিয়াকত আলী।
সংগঠনের সভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ মোহছেন শরীফের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, কক্সবাজার ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তরুণ আলিম, লেখক ও গবেষক হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর। এ প্রবন্ধে শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. এর জীবন, কর্ম, শিক্ষা-সংস্কার, সমাজচিন্তা, রাষ্ট্রদর্শন এবং মুসলিম পুনর্জাগরণে তাঁর অবদান তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, তরুণ আলিম মাওলানা এড. রিদুয়ানুল কাদির।
সেমিনারে আলেম-ওলামা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।