মহেশখালীতে চলমান বা আগামীর কোনো সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প কিংবা যেকোনো ধরণের কাজে সংসদ সদস্যের নাম ভাঙিয়ে কোনো প্রকার ‘কমিশন বাণিজ্য’ বা অনৈতিক লেনদেন সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। গতকাল (২১ মে) সকালে মহেশখালী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি’ এবং পরবর্তীতে ‘উপজেলা সমন্বয় কমিটির’ পৃথক দুটি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় একটি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে উন্নয়নের প্রতিটি টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে। সব বিভাগের সমন্বয়ে একটি নতুন ও উন্নত মহেশখালী বিনির্মাণে কর্মকর্তাদের সততার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ জাতীয় মেগা প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বলেন, মহেশখালী বর্তমানে দেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রধান কেন্দ্র। তাই মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং এসপিএম প্রকল্পসহ সকল ‘কেপিআই’ (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) এলাকাগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর মহেশখালীতে বড় ধরণের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং সামাজিক অবক্ষয়জনিত ছোটখাটো অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন। সামনে পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাল টাকা ও চাঁদাবাজি রোধে প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রধান সড়ক ও ঘাটে নিয়মিত তদারকি এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক টমটম চালকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা সভার পরপরই অনুষ্ঠিত উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় সংসদ সদস্য মহেশখালীর শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁর অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “মাতারবাড়ি ও মহেশখালীর বুক চিরে বিশাল মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই মাটির সন্তানদের দাবি উপেক্ষা করে বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক বা জনবল নিয়োগ করা চলবে না। মেগা প্রকল্পগুলোতে মহেশখালীর সন্তানদের চাকরি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মহেশখালীকে একটি আধুনিক মডেলে রূপান্তর করতে হলে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ- প্রতিটি বিভাগের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় থাকতে হবে। উন্নয়ন কাজে গতি আনতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে কর্মকর্তাদের সরাসরি মাঠে গিয়ে কাজ তদারকির পরামর্শ দেন তিনি।
এমপি আলমগীর ফরিদ মহেশখালীর অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুটিবিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিজনিত অচলবস্থা সৃষ্টির বিষয় তুলে ধরে বলেন এ প্রতিষ্ঠানটি স্বভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আসতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি এ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু জাফর মজুমদার, মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সুলতান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুবক্কর ছিদ্দিক, ও জামায়াত নেতা মাস্টার শামীম ইকবাল। এছাড়াও বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতিনিধি, এসপিএম প্রকল্পের প্রতিনিধি, মহেশখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি, মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি মহেশখালীর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ার আলমসহ অনেকেই সভায় গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার প্রতিটি প্রকল্প ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করা হবে। অপরাধ দমনে এবং উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সংসদ সদস্যের ‘কমিশনমুক্ত’ মহেশখালী গড়ার ঘোষণাকে উপস্থিত সকলে সাধুবাদ জানান এবং এটি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে ইউএনও ইমরান মাহমুদ ডালিম জানিয়েছেন, যারা কমিটির নিয়মিত ও নতুন ভাবে আমন্ত্রিত সদস্য হওয়ার পরেও সভায় উপস্থিত থাকেনি তাদেরকে কারণ দর্শতে বলা হবে। একটি সুন্দর ও শৃঙ্খল উপজেলা গঠনে সব সেক্টরের প্রতিনিধির উপস্থিতি ও জবাবদিহিতা শিশ্চিত করা হবে।