পড়ন্ত বিকেলে পশ্চিমাকাশে হেলে পড়া লাল সূর্য সমুদ্রসৈকতকে রঙিন করেছে। কক্সবাজারের বালুচরে পর্যটকরা সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করছেন। বিশেষ করে-সাগরতীর ঘেঁষে বালুচরে পর্যটক ও স্থানীয় দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। অনেকেই সূর্যকে পেছনে রেখে ছবি তোলায় ব্যস্ত।
রোববার (২২ মার্চ) ঈদের টানা ছুটির দ্বিতীয় দিনে সমুদ্রসৈকতে এই দৃশ্য দেখা যায়। ঈদের ছুটিতে দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীরা পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্ত দেখার জন্য ভিড়ে সৈকতকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ৩ কিলোমিটার সাগরতীর বালুচর যেন পুরোপুরি জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সমুদ্রসৈকতের কলাতলী, লাবনী ও সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়- ৩ কিলোমিটার সৈকতে অন্তত দেড় থেকে দুই লাখ পর্যটক রয়েছে। ভাটার কারণে পানি নেমে যাওয়ায় দেখা দেয় বিশাল বালুচর। সেখানে প্রিয়জনদের নিয়ে ঈদের ছুটিতে সূর্যাস্তের মুহূর্ত ক্যামেরায় বন্দি করতে পর্যটকেরা ব্যস্ত। সবারই যেন চোখ ডুবন্ত সূর্যের দিকে। সূর্য ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের অনেকেই তখন হৈ-হুল্লোড় শুরু করে দেন। অনেকে হাত তুলে সূর্যকে বিদায়ও জানান।
নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ার একটি স্কুলের শিক্ষক সানজিদা খানম বিকেলে সমুদ্রসৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যকে হাতের মুঠোয় তুলে ছবি তুলছিলেন। সমুদ্রসৈকেরত ভ্রাম্যমাণ ফটোগ্রাফার আব্দুস সবুর তাকে ছবিতে ধরা দেন। পরে সানজিদা খানম এবং তার পরিবারের ১১ সদস্য যৌথভাবে কিছু ছবি তুলতে দেখা যায়।
কথা হয় সানজিদা খানমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতের মূল আকর্ষণ হলো সূর্যাস্ত উপভোগ করা। সূর্যের লাল আভায় সাগরের পানি যেন রঙিন হয়ে ওঠে। এমন দৃশ্য দেখে খুবই ভালো লাগে। ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতের মূল আকর্ষণ হলো সূর্যাস্ত উপভোগ করা। সূর্যের লাল আভায় সাগরের পানি যেন রঙিন হয়ে ওঠে। এমন দৃশ্য দেখে খুবই ভালো লাগে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘পড়ন্ত বিকেলে আকাশে গোধূলি মাখা সূর্য যখন সমুদ্রে ডুবে যায়, তখন মানুষের মনের বিষাদও কমে আসে। এমন মনোরম দৃশ্যকে উপভোগ করতে গেলে একটি শিল্পমনা ও সংস্কৃতমন থাকা প্রয়োজন। যারা এই মনোভাব ধারণ করে, তারা প্রকৃতির প্রতি প্রেমে মগ্ন থাকে।নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা দীর্ঘ যাত্রার পর এখানে এসে এই সৌন্দর্য উপভোগ করেন।’
নিজ মনে এই প্রকৃতির প্রেম লালন করেন এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করার আহ্বান জানান স্থানীয়রা।
তিনি বলেন, ‘প্রকৃতি যেন তার স্বাভাবিক অবস্থানে অনড় থাকে, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য যেন টিকে থাকে এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ বজায় থাকে-এতে আমাদের জীববৈচিত্র্যের সুষমতা নিশ্চিত করা সম্ভব।’
ঢাকার বাড্ডা থেকে আসা পর্যটক সাবেকুন্নার বলেন, ‘কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সূর্যাস্তের দৃশ্য সত্যিই অপূর্ব। সমুদ্রের বুকে রক্তিম সূর্য যখন অস্ত যায়, তখন এক মনোরম দৃশ্যের অবতারণা হয়। এই দৃশ্য দেখতে অনেক ভালো লাগে।’
এদিকে পর্যটকরা যখন সূর্যের সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত, তখন তাদের নিরাপত্তায় নজর রাখছেন বেসরকারি সী-সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার কর্মীরা। সাগরে নেমে যেসব পর্যটক আছেন, তাদের দিকে খেয়ল রাখছেন তারা। বালচুরে চৌকিতে বসে নজর রাখছেন পানিতে জেড স্কীতে ঘুরে বেড়ানো পর্যটকদের।
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী মোহাম্মদ শুক্কুর বলেন, ঈদের ছুটিতে সকালে লাখের বেশি ভ্রমণপিপাসুর উপস্থিতি ছিল সাগরতীরে। তবে বিকেলে পর্যটকের পাশাপাশি স্থানীয় দর্শনার্থীর আগমন আরও বেড়ে যায়। সেই হিসেবে দেখা যায় দেড় থেকে ২ লাখের কাছাকাছি পর্যটকের সমাগম হয় পড়ন্ত বিকেলে। এক্ষেত্রে আমরা সকাল থেকে সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্তক থাকি।