যোগ্যতা আর দক্ষতার ভিত্তিতেই হবে পদোন্নতি-কোনো প্রভাব বা সুপারিশের সুযোগ নেই। কক্সবাজারে বিমান বাহিনীর ১৩২তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার দুপুরে এমন বার্তা দিয়েছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
বিমান বাহিনীর প্রধান বলেন, ‘ঘাঁটি ও ইউনিট থেকে আসা তরুণ ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন। তাই নতুন যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান কিংবা রাডারের মতো আধুনিক প্ল্যাটফর্ম সংগ্রহের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চতুর্থ প্রজন্মের উন্নত যুদ্ধবিমানসহ নতুন প্রযুক্তি ও সক্ষমতা যুক্ত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় তরুণ কর্মকর্তাদের কঠোর অধ্যয়ন, পেশাগত দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও পেশাদার করা হচ্ছে জানিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা ও পেশাগত উৎকর্ষের মানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ইউনিট ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি ঢাকায় এয়ার ওয়ারফেয়ার সেন্টার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে। তবে আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল জনবল।
শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য শৃঙ্খলা হারিয়ে অনিয়মে জড়িয়ে পড়লে তা বিমান বাহিনী ও দেশের জন্য বড় ক্ষতি। তাই কর্মকর্তাদের নিজেদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি অধীনস্থ বিমানসেনা, কারিগরি সদস্য ও অন্যান্য জনবলের সমস্যা জানতে হবে এবং তাদের অনুপ্রাণিত করতে হবে।
মহাকাশকে ভবিষ্যতের নয়, বর্তমানেরই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ইতোমধ্যে মহাকাশ কার্যক্রমে অবদান রাখছে। সরকারের মহাকাশ কর্মসূচিতেও সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে রূপান্তরের দিকেও এগিয়ে যেতে হবে।
পদোন্নতি প্রসঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ভবিষ্যতে কোনো কর্মকর্তাকে উপহার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হবে না। যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি অর্জন করতে হবে। সব ধরনের প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
সবশেষে কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের উচ্চ পেশাগত মান বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন বিমান বাহিনী প্রধান। একই সঙ্গে বিএএফ বেস কক্সবাজারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটউট (সিএসটিআই) এর অফিসার কমান্ডিং গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাহিদ আশরাফ বলেন, ১৪ সপ্তাহের ১৩২তম জেসিএসসি কোর্সে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৫৮ জন ও শ্রীলঙ্কা বিমান বাহিনীর একজনসহ মোট ৫৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। অসুস্থতার কারণে একজন কোর্স সম্পন্ন করতে না পারায় আজ ৫৮ জন কর্মকর্তা সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন।
তিনি বলেন, মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে জেসিএসসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ১৩২তম কোর্স থেকে সংশোধিত ও যুগোপযোগী কারিকুলামের পাশাপাশি ‘আউটকাম বেজড এডুকেশন’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এতে বক্তৃতা, দলীয় আলোচনা, পরিস্থিতিভিত্তিক অনুশীলন, উপস্থাপনা, পরীক্ষা, সেমিনার ও কর্মশালার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটকে নেতৃত্ব ও স্টাফ প্রশিক্ষণের উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। কোর্সটির সফল আয়োজন ও পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের পরিবারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাহিদ আশরাফ।
মূলত, ১৪ সপ্তাহের এ কোর্সে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা বিমান বাহিনীর ৫৯ কর্মকর্তা অংশ নেন। এর মধ্যে ৫৮ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেন। সেরা নৈপুণ্যের জন্য ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হাসিন তানভীর পান ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী কর্মকর্তাদের সনদপত্র ও ট্রফি প্রদান করেন।
এসময় বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজার এয়ার অফিসার কমান্ডিং এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ শরীফুল ইসলামসহ সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সিএসটিআই’র প্রশিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।