তাজুল ইসলাম পলাশ
সারা দেশের মতো কক্সবাজারেও খাদ্যে ভেজাল রোধ ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি বন্ধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে জেলা কার্যালয়। তবে বিপুল এই কর্মযজ্ঞ চলছে মাত্র একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে।
জেলা ভোক্তা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ২৪টি অভিযান চালানো হয়। এতে বিভিন্ন অপরাধে ৫৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময়ে জমা পড়া ৭৯টি লিখিত অভিযোগের মধ্যে ৬৯টি নিষ্পত্তি হয় এবং আইন অনুযায়ী অভিযোগকারীরা জরিমানার ২৫ শতাংশ হিসেবে পান ৮ হাজার টাকা। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকায় বাকি অভিযোগগুলো খারিজ করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১৪টি অভিযানে ৬১৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৩২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। ওই সময়ে জমা পড়া ২৪৮টি অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ২৪২টি। জরিমানার অর্থ থেকে ২৬ জন অভিযোগকারীকে মোট ২৯ হাজার ৭৫০ টাকা বুঝিয়ে দিয়ে বাকি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ২০২২ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে ইমরান হোসাইন দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করেন। তবে নাহার ফিলিং স্টেশনে ওজনে তেল কম দেওয়ার অভিযোগে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে মাত্র ২০ হাজার টাকার রশিদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বাকি ১ লাখ টাকা কর্মকর্তা ও তাঁর মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয় বলে জানাজানি হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে ৮ সেপ্টেম্বর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সেই ১ লাখ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন ইমরান হোসাইন।
এ ঘটনায় দপ্তরসহ সর্বত্র সমালোচনা শুরু হলে তাঁকে বদলি করা হয়। এরপর প্রায় দুই মাস তালাবদ্ধ ছিল কক্সবাজারের কার্যালয়টি। সে সময় তদারকি না থাকায় এলপিজি, জ্বালানি তেল, চিকিৎসা, ফার্মেসি এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ওই বছরের ৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. দিদার হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি কক্সবাজারে এসেছিলেন মাত্র একবার; ২৫ অক্টোবর লাবণী পয়েন্টের একটি রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. হাসান-আল-মারুফ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উপজেলা পর্যায়েও নিয়মিত নজরদারি শুরু করেন তিনি।
জনবল সংকটের বিষয়ে মো. হাসান-আল-মারুফ বলেন, 'কক্সবাজার কার্যালয়ে পদ বলতে কেবল সহকারী পরিচালক ও একজন অফিস সহকারী—এই দুজন। এত বড় একটি জেলায় একজনে কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত কঠিন। কাজের ব্যাপক চাপ থাকলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।'
তিনি আরও জানান, পর্যটন নগরী হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কক্সবাজারে বিপুল মানুষ আসেন। কোনো পর্যটক যাতে প্রতারণার শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাজার, ফার্মেসি, খাদ্যপণ্য ও রেস্তোরাঁগুলোতে প্রতিদিন মনিটরিং অব্যাহত রাখা হয়েছে।