উখিয়ায় বোরো চাষাবাদে মাঠ জুড়ে সোনালী রঙের ধানের গাছ বাতাসের ঢেউয়ের সাথে দোল খাচ্ছে। কৃষকদের স্বপ্ন কাঙ্ক্ষিত শস্য কর্তন করে ঘরে তোলা। এবার ফলন উৎপাদন আশানুরূপ হওয়ায় লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে উখিয়ার ৫ টি ইউনিয়ন যথাক্রমে জালিয়া পালং ইউনিয়ন , রত্না পালং, রাজা পালং পালংখালী ইউনিয়ন ও হলদিয়া পালং ইউনিয়নে ৬ হাজার ৮ শত ৭০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। যা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯০ হেক্টর একর বেশি।
সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, উখিয়া গ্রামের পর গ্রাম মাঠ জুড়ে বোরো চাষাবাদে সবুজের সমারোহ রঙ্গিন হয়ে উঠেছে। চোখ জুড়ানো সোনালী ফসলের হাসি। বাতাসের ঢেউয়ের সাথে কৃষকরা স্বপ্ন দেখছে। জালিয়া পালং সোনার পাড়া, মন খালি, হিজলিয়া কুতুপালং, হিজলিয়া, চৌধুরী পাড়া, হরিনমারা, পাতাবাড়ি, মরিচ্যা,কোটবাজার, রুমখা ও পাগলীর বিল সহ ৬৪ টি গ্রামে কৃষক কৃষানীরা শস্য কর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কৃষক মোহাম্মদ হোসেন ও আলী মিয়া জানান, বর্তমানে ৮০ ভাগ জমিতে ধান পাকতে শুরু করেছে। বর্তমানে শস্য কতর্ন শুরু হলেও আগামী সপ্তাহে মাঠে পুরো দমে শস্য কর্তন শুরু হবে।
হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পাতাবাড়ি গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান জানান, ২ একর জমিতে ব্রি ধান ২৮ নং জাতের চাষ করে বেশ ভালোই হয়েছে। রত্না পালং ইউনিয়নের চাকবৈটা গ্রামের ছৈয়দুর রহমান , মোহাম্মদ জুবায়ের জানান, এবারে আবহাওয়ার পরিবেশ অনুকূল, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও সঠিক পরিচর্যা করায় বোরোধান চাষাবাদে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। ধানের ফলন দেখে কৃষকদের মন ভরে গেছে।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, দেশীয় উফশী জাতের পাশাপাশি কৃষকরা উন্নত জাতের হাইব্রিড বীজের চারা দিয়ে চাষাবাদ করেছে । ব্রি যথাক্রমে ২৮, ৭৫, ৮৮,৮৯, ৯২, ৯৪,৯৫ ,১০০ ও ১০১ জাতের বীজের চারা দিয়ে চাষাবাদ করছে মাঠের পর মাঠ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিষ সরকার জানান, এবারে ফলন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ হাজার মেট্রিক টন। আশানুরুপ ফলন দেখে আশা করা হচ্ছে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
তিনি আরো বলেন, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এবারে ৭ শত জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে ৫ কেজি করে ৩ হাজার কেজি বোরো উফশী ও হাইব্রিড জাতের বীজ ধান সহ এমওপি ও ডিএমপি সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বেনজির ইকবাল বলেন, জায়গা নির্বাচন, আদর্শ বীজ তলা তৈরী,চারা উৎপাদন আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ প্রযুক্তি ব্যবহার, জৈবিক উপায়ে রোগ বালাই দমন বিষয়ে কৃষকদেরকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।