সংসদ অধিবেশন শেষ করে ঢাকা থেকে ফিরেই নিজ নির্বাচনী এলাকা মহেশখালীতে দিনব্যাপী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) তিনি উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন।
এদিন সকালে এমপি আলমগীর ফরিদ উপজেলার দক্ষিণ ঝাপুয়া নিবাসী প্রবীণ বিএনপি নেতা ও ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মরহুম আবুল কাশেমের বাসভবনে ছুটে যান। সম্প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এই নেতার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এমপি ফরিদ মরহুমের কবর জিয়ারত করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটিয়ে তাদের ধৈর্য ধারণের সান্ত্বনা ও খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি বলেন, "আবুল কাশেমের মতো ত্যাগী ও আদর্শবান কর্মীরাই দলের মূল শক্তি। তার মৃত্যুতে দল একজন নিবেদিত অভিভাবককে হারিয়েছে।"
এরপর তিনি মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী ঝাপুয়া মাদ্রাসার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় মাদ্রাসার পরিচালক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন কালারমারছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এখলাচুর রহমান চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
রাতে বড় মহেশখালী সার্বজনীন হরি মন্দির সংঘ মহোৎসব পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত ‘শ্রীকৃষ্ণময়’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এমপি। সেখানে তিনি ধর্মীয় উৎসবে আগত পুণ্যার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, "ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমরা সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে মহেশখালীর উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।"
দিনভর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ নাগরিক ও নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় শেষে তিনি জানান, আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা টিডিসি হলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সাথে এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। উক্ত সভায় তিনি মহেশখালীর বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, উন্নয়ন এবং সম্ভাবনা নিয়ে সর্বসাধারণের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করবেন।
দীর্ঘ সংসদ অধিবেশন শেষ করে এলাকায় ফিরেই সংসদ সদস্যের এমন জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।