মেরিনা সুলতানা, পরিচালক, রামরু
অভিবাসন খাতে মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, সরকারীরিক্রুটিংএজেন্সীবোয়েসেল কিংবা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এবং আইনি কাঠামোও তৈরি হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সংরক্ষণের চিত্রটি এখনো পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয়। গবেষণা ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ৯৩ শতাংশ কর্মী কোনো রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি না চিনে স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগী, আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীদের ওপর নির্ভর করেন। ফলে প্রতারিত হলেও সামাজিক সম্পর্কের কারণে তারা মামলা করতে চান না, আবার এজেন্সির কাছ থেকেও পুরো ক্ষতিপূরণ পান না। অন্যদিকে ২০১৩ সালের অভিবাসন আইন থাকা সত্ত্বেও জটিল বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে সরাসরি আইনের আশ্রয় নেওয়ার হারও নগণ্য।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় ২০১৭ সাল থেকে রামরুও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো 'বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি'র একটিমডেল নিয়ে কাজ শুরু করে। এই বিরোধ নিস্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি ও সরকারি মেকানিজম ব্যবহার করে এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসীদের অন্তত ১৬ কোটি টাকা ফেরত পেতে সহযোগিতা করা হয়েছে, পাশাপাশি বিএমইটির জমে থাকা অভিযোগের সংখ্যা কমাতেও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়েছে।
তবে কেবল একক সাফল্যই যথেষ্ট নয়; অভিবাসীদের পূর্ণ অধিকার সুরক্ষায় এই বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি প্রক্রিয়াকে একটি স্পষ্ট বিধিমালার মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে বিএমইটি পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে সাব-এজেন্টদের জবাবদিহিতা ও নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং অভিবাসনের নামে বিদেশে ঘটা মানব পাচারের মতো গভীর প্রতারণা রুখতে আইন সংস্কারের পাশাপাশি মাঠ পর্যায় থেকে সামাজিকভাবে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।