এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঈদের পর চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ কিছুটা কম থাকার কারণে এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমেছে। পাইকারিতে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ১৩৫-১৫৫ টাকা। যা খুচরা বাজারে ১৬০-১৭০ টাকা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদের পর থেকে এখনো পর্যন্ত সবজির বাজার অস্থির। ৪০ টাকার নিচে কোন সবজি নেই। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম নাগালের ভেতরে রয়েছে। এছাড়া মাছ-মাংসের বাজার দিন দিন নিম্ন-মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আর বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, এজন্য সবজির দাম বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশ মাছ ১৯০-২২০ টাকায়। বাজারে শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০- ৫৫০ টাকা, কই (চাষের) ৩৫০-৪০০ টাকা, রুই ৩৪০-৩৬০ টাকা, মৃগেল ৩০০ টাকা, কার্প ৪০০ টাকা, মিঠা পানির কোরাল ৮০০-১২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০-৩০০ টাকা, ট্যাংড়া ৬০০-৭০০ টাকা। সাগরের সুরমা ৭০০- ৮০০ টাকা, তাইল্যা ৬০০-৭০০ টাকা, বাটা ৫০০-৬০০ টাকা, সাগরের কোরাল ১০০০-১৩০০ টাকা, রুপচাঁদা ১২০০-১৪০০ টাকা, ফইল্যা ১৩০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৮০০-১০০০ টাকা, ছোট চিংড়ি ৭০০-৮০০ টাকা, ঘুইজ্যা আকারভেদে ৫০০-১০০০ টাকা, পাঁচমিশালী ২০০-২৫০ টাকা, কাচকি ২৫০-৩০০ টাকা।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানালেন, ডিজেল সংকটের কারনে, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সামান্য তেল নিয়ে সাগরের খুব কাছ থেকে মাছ মারা হচ্ছে। কিন্তু, মানুষের চাহিদা বেশি। একারনে, মাছের দাম অনেক বেশি। এছাড়া ফুটপাত ও ভ্যানে করে মাছ বিক্রির কারনে দাম বাড়তি। তাঁদের দোকান ভাড়া, কারেন্ট বিল ও অন্যান্য খরচ লাগে না। তাদের শুধু চাঁদা দিলেই হয়ে যায়।
কানাই বাজারের খুচরা মাছ ব্যবসায়ী সালাম বলেন, 'যে মাছ রোজার আগে ৪০০ টাকা ছিল,সেই মাছ এখন ৫০০ টাকা। তার দোকানে ঘুইজ্যা মাছ আকারভেদে ৪০০-৬০০ টাকা, ছোট মাছ ৩৫০ টাকা, রাম ফাইস্যা ৩৫০ টাকা, রুপচাঁদা ( কালো) ৭০০ টাকা, ইলিশ ৪০০ গ্রাম ওজনের ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন'।
বাহারছড়া বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হুমায়ুন বলেন, 'সরবরাহ নেই বললে চলে। এক মাস আগে তাইল্যা মাছ মন প্রতি ১৬০০০ হাজার টাকা দরে কিনেছি। এখন টাকা দিয়েও মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তার দোকানে, কালো চাঁদা ৭০০-৯০০ টাকা, মিঠা পানির কোরাল ১০০০ টাকা, পাবদা ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন'।
অন্যদিকে মাছের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দেশি মুরগি ও গরুর মাংসের দাম। বাজারে দেশি মুরগী বিক্রি হচ্ছে
কেজিতে ৭০০-৭৫০ টাকা, পাকিস্তানি ৩৩০-৩৫০ টাকা, সোনালি ৩৫০ টাকা। গরুর মাংস হাড় ছাড়া ১০০ টাকা এবং হাড়সহ ৮৫০ টাকা। ছাগলের মাংস ১২০০ টাকা।
কানাই বাজারের পাইকারি মুরগি ব্যবসায়ী নুরুল হক সওদাগর বলেন, 'ব্রয়লার মুরগি ১ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের ১৫৫ টাকা এবং দেড় কেজির ওপরে ১৩৫ টাকায় বিক্রি করছি। সোনালি ৩২০ টাকা এবং পাকিস্তানি ৩৫০ টাকা দামে বিক্রি করতে হচ্ছে'।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০-২০ টাকা। নতুন কাঁকরোল ১৬০-১৮০ টাকা, কচুরলতি কেজি ১০০ টাকা, শসা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪০-৫০ টাকায়, টমেটো ২০-৩০ টাকা, বেগুন ৩০৪০ টাকা, লাউ ৩ প্রতি পিস ৩০-৫০ টাকা ,মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি, ঢ্যাঁড়স ৮০-১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকা, গাজর ৪০-৫০ টাকা, দেশি আলু ৫০-৬০ টাকা, বগুড়ার আলু ৩০ টাকা, ললিতা আলু ২৫ টাকা, শিম ৬০ টাকা, বরবটি ৮ টাকা, পটল ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যাবসায়ীরা। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকা, রসুন ১৬০ টাকা এবং আদা ২৬০-২৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাহারছড়া বাজারে বাজারে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ নোমান বলেন, সবজির দাম ঈদের পর থেকে একই অবস্থা। কিন্তু, মাছের অনেক বেশি। শুধু সাদা মুরগি, আলু, পেঁয়াজ, বাংলা লাউ এবং শাক এগুলোর দাম কমে আছে।
আরেকজন ক্রেতা এনজিও কর্মকর্তা আহসানুল হক সাব্বির বলেন, সব সময় বাজারে কোন কোন না কোন কিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবেই। সবজির দাম যেমন বাড়তি, তেমনি মাছের দামও। এজন্য উচিত বাজার মনিটরিং করা। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করলে সব ধরনের পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকতো বলে তিনি জানান।
জেলা বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে সাগরে ট্রলার যেতে পারছে না। অলস বসে আছে কয়েক হাজার জেলে এবং ট্রলার। দৈনিক যেখানে ৫০ টি বোট সাগরে যেতো সেখানে ৫ টি ট্রলার মাছ ধরতে যায়। তা-ও সাগরের গভীরে যেতে পারছে না। এ অবস্থায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কমে গেছে। বাজারে চাহিদা থাকলে-ও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একারণে, মাছের দাম বাড়তি। তিনি বলেন, তেলের সংকট কেটে না গেলে সামনে মাছের দাম আর-ও বাড়বে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, চাহিদার তুলনায় মাছের সরবরাহ কমে গেছে। জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। কয়েকটি ট্রলার গেলেও তা _ অনেক কাছে। গভীর সাগরে যে মাছ পাওয়া সেই, মাছ তো আর কাছে পাওয়া যায় না। এছাড়া ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা আসছে।
জেলা ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা হাসান আল মারুফ দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অভিযান চলছে। একদিনও বসে নেই। এমনকি ছুটির দিনেও বাজার তদারকি করতে হয়। একজন মানুষ পুরো জেলা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সিলিন্ডার, ডিজেল, কাঁচা বাজারসহ সব জায়গায় একই অভিযোগ পাচ্ছি, দাম বাড়তি।সমস্যাগুলো সমাধান করতে কাজ করে যাচ্ছি।