প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া গোলদিঘিরপাড়ে অবস্থিত মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান কার্যালয় মুক্তি ভবন পরিদর্শন করেন গতকাল। এ সময় মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার, উপ-প্রধান নির্বাহী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে এবং তাঁর দলকে ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে স্বাগত জানান।
সফরকালে সংস্থার সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়; যেখানে সংস্থা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, চলমান প্রকল্পসমূহ, মানবসম্পদ এবং বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে মুক্তি কক্সবাজার এর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসমষ্টির উন্নয়নে দৃঢ় প্রত্যয় ও ভূমিকা নিয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করা হয়।
প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার জানান, বর্তমানে মুক্তি কক্সবাজার শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা, জেন্ডার ও সুরক্ষা, পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসসহ বিভিন্ন খাতে ২৪টি মানবিক ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। মোট বরাদ্দকৃত অর্থের অর্ধেকের বেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় করা হচ্ছে এবং প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীদের ৭০ শতাংশেরও বেশি নারী। প্রতিষ্ঠানটি কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও নোয়াখালীসহ চারটি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মানসম্মত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রায় ৪ হাজার জন কর্মী ও ভলান্টিয়ার কাজ করছেন, যাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ নারী এবং ১ শতাংশেরও বেশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন।
ডক্টর মোহাম্মদ জাকারিয়া মুক্তি কক্সবাজার এর চলমান মানবিক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং কার্যক্রম চলমান রাখতে ধারাবাহিক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করবেন। পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর কর্মসুচি গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনের অংশ হিসেবে বৃক্ষ রোপণের জন্য আহ্বান জানান। সফর শেষে তিনি বলেন, 'আমি এই এলাকার মানুষ হিসেবে মুক্তি কক্সবাজার সম্পর্কে অবগত ছিলাম, তবে আজকের উপস্থাপনার মাধ্যমে আমার ধারণা আরও সুস্পষ্ট হয়েছে। আমি আশা করি মুক্তি তার প্রতিশ্রুতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখবে এবং ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে আরও ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে।'