আজ দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আল্লাহর অশেষ রহমত এবং পাঠক, লেখক, সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা ও সর্বস্তরের কক্সবাজারবাসীর সহযোগিতায় দৈনিক কক্সবাজার আজ গৌরবের সঙ্গে ৩ যুগে পদার্পণ করেছে। এই দীর্ঘ পথচলায় যাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থন আমাদের শক্তি জুগিয়েছে, তাঁদের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছি দৈনিক কক্সবাজার-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মরহুম মোহাম্মদ নুরুল ইসলামকে। তাঁর অনুপস্থিতিতে আজও এক গভীর শূন্যতা অনুভূত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেখেছি, একটি পত্রিকা প্রকাশের পেছনে তিনি কতটা নিরলস পরিশ্রম, মেধা, আন্তরিকতা এবং কষ্টার্জিত সম্পদ ব্যয় করেছেন। অসংখ্য নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন শুধু পাঠকের হাতে একটি মানসম্মত সংবাদপত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য। ভোরে পত্রিকা প্রকাশের পর তা পড়ে তবেই তিনি নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিতেন।
দৈনিক কক্সবাজার ছিল তাঁর প্রাণের চেয়েও প্রিয়। সন্তানদের চেয়েও তিনি যেন এই পত্রিকাকে বেশি ভালোবাসতেন। এ নিয়ে আমাদের কোনো আক্ষেপ ছিল না; বরং গর্ব ছিল। কারণ আমরা জানতাম, এই ভালোবাসার মধ্যেই তিনি কক্সবাজারের মানুষের জন্য একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম গড়ে তুলছেন।
জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরও কক্সবাজারবাসী তাঁকে যে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মানজনক আসনে দেখতে পেয়েছি। তাঁর শোকসভায় সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি ও স্মৃতিচারণ ছিল তাঁর প্রতি মানুষের অকৃত্রিম শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ।
এখন তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো সৃজনশীলতা, সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দৈনিক কক্সবাজারকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং তাঁর স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়া। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন আমাদের সেই তাওফিক দান করেন, যাতে তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো আমরা সম্পন্ন করতে পারি এবং তাঁর দেখানো পথেই চলতে পারি।
তিনি সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করেছেন, মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমতের চাদর বিস্তার করে রেখেছেন।
সবার কাছে বিনীত অনুরোধ, মরহুম মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
আমীন।
ফাতেমা জাহান
সম্পাদক
দৈনিক কক্সবাজার