জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশন ৩০ এপ্রিল শেষ হওয়ার পর সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের এক নোটিসের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক রাজধানীতে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তার দাবি, রাজধানীর অভিজাত এলাকার আবাসিক ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধ করা যাচ্ছে না। কেউ ঠিকানা পরিবর্তন করে, কেউ প্রশাসনের যোগসাজশে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের পরে এই মহান সংসদের সেশন শেষ হওয়ার পরে, আমরা সমন্বিতভাবে এ বিষয়ে সারাদেশে একটি অভিযান পরিচালনা করব। এ দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য এর কোনো বিকল্প নাই।”
বর্তমান সরকার মাদককে ‘জাতীয় সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দাবি করে তিনি বলেন, “অবৈধ সিসা লাউঞ্জ চালু রাখার লক্ষ্যে মালিকরা রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচটি রিট মামলা করেছেন। এসব মামলায় হাই কোর্ট বিভাগের রুল ও নির্দেশনার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আপিল করেছে। আপিল বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাতিল করে দিয়েছে।
“স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৮ এপ্রিলের স্মারকে অনুমোদনহীন সিসা লাউঞ্জ নামের মাদক স্পট বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ১৬ এপ্রিল রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৫ নম্বর সড়কে অবৈধ সিসাবার ‘দ্য কোর্টইয়ার্ড বাজার লাউঞ্জে’ অভিযান চালায়। সেখান থেকে আনুমানিক পাঁচ কেজি সিসা ও ৩৫টি হুক্কা জব্দ করা হয় বলে তথ্য দেন মন্ত্রী।
অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলো যাতে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে আবার কার্যক্রম শুরু করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার কথা তিনি বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় অবৈধ সিসা বার ও লাউঞ্জ গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন সালাউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘প্রভাবশালী’ রাজনৈতিক ব্যক্তি, অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় এসব স্থানে মাদক সেবন, কেনাবেচাসহ বিভিন্ন ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ পরিচালিত হত।
রাজধানীতে আবাসিক বাসার আড়ালে বা ঠিকানা পরিবর্তন করে কোনো অবৈধ সিসা লাউঞ্জ যাতে পরিচালিত না হয়, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি চলছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ভবন মালিকদের সচেতন করা হচ্ছে, যাতে আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনে কেউ অবৈধ সিসা লাউঞ্জ স্থাপন করে ব্যবসা করতে না পারে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এই ব্যবসায় মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া মাত্র তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”