দীর্ঘ আট বছরের সাংগঠনিক স্থবিরতা ভেঙে এক নতুন ও ঐতিহাসিক পথচলার সূচনা করেছে কক্সবাজার জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। নবগঠিত আংশিক কমিটিকে স্বাগত জানাতে এবং সংগঠনের সংহতি প্রকাশে গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) পর্যটন নগরীর রাজপথে নেমেছিল হাজার হাজার ছাত্রনেতা ও কর্মীর এক অভূতপূর্ব জনস্রোত। শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুন্গাছতলা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। জেলার আটটি উপজেলা, বিভিন্ন কলেজ ও পৌরসভা থেকে আসা কয়েক হাজার নেতাকর্মীর গগনবিদারী স্লোগান আর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিলো লক্ষ্য করার মতো। এই শোডাউনকে কক্সবাজার ছাত্রদলের রাজপথের ‘পুনর্জন্ম’ হিসেবে দেখছেন রাজনীতি সচেতন মহল।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে গঠিত রিপন-ফাহিম পরিষদ ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট বিলুপ্ত করার পর দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে গেল ২ মে ফাহিমুর রহমান ফাহিমকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ সাঈদ আনোয়ারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্যের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। এই কমিটিকে ঘিরে তৃণমূলের মাঝে শুরু থেকেই ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং মামলা-হামলার শিকার হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব উঠে আসায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। মঙ্গলবারের এই বিশাল মিছিলটি কেবল একটি শোডাউন ছিল না, বরং এটি ছিল নবগঠিত নেতৃত্বের প্রতি জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কর্মীদের সুদৃঢ় সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।
শোভাযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি ফাহিমুর রহমান ফাহিম বলেন, এই কমিটি রাজপথের লড়াকু সৈনিকদের ত্যাগের ফসল। আমরা এমন একটি ঐতিহাসিক ছাত্রদল গঠন করতে চাই যা সারা বাংলাদেশের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে ক্যাম্পাসভিত্তিক সৃজনশীল রাজনীতি ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করা। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ আনোয়ার সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যারা রাজপথে দীর্ঘ দুঃসময়ে দলের ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে যোগ্যতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে।
মিছিলে উপস্থিত তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ এবং পদপ্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক ও ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেওয়া হয়। নেতৃবৃন্দ আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান আংশিক কমিটিতে যারা স্থান পাননি, তাঁদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। অতি শীঘ্রই ত্যাগী, যোগ্য ও মেধাবী নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি এবং উপজেলা ও পৌরসভা ইউনিটগুলো পুনর্গঠন করা হবে। সেখানে রাজপথের পরীক্ষিত কর্মীদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। এই প্রতিশ্রুতির ফলে নতুন কমিটিকে ঘিরে শুরুতে তৈরি হওয়া সাময়িক অসন্তোষ ও বিভেদ ঘুচিয়ে পুরো সংগঠন এখন একক নেতৃত্বে ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের মতে, ফাহিম-সাঈদ পরিষদের অধীনে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদল একটি ছাত্রবান্ধব, শিক্ষার্থীবান্ধব ও শক্তিশালী মডেলে পরিণত হবে। রাজপথের এই বিশাল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, আগামীর আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সুসংহত করতে কক্সবাজারের ছাত্রসমাজ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুসংগঠিত ও প্রস্তুত।