চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবিতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও সাংগঠনিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও রহস্যজনক কারণে তা বহাল রাখায় তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা দানা বাঁধছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চকরিয়া উপজেলার আওতাধীন অধিকাংশ ইউনিয়ন বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ইতোমধ্যে পুনর্গঠন করা হলেও লক্ষ্যারচরের ক্ষেত্রে রহস্যময় নিরবতা দলীয় শৃঙ্খলা ও গতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
দলীয় সূত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য জানা যায়, ২০২৩ সালের ৫ মার্চ লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনের পর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ মাত্র ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী অতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও তা দীর্ঘ এক বছর ঝুলে থাকে। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির নির্দেশনায় প্রায় দুই বছর তিন মাস আগে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলেও সেই কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। পদপ্রত্যাশী ও সাধারণ কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন একই নেতৃত্ব বহাল থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর ইতোমধ্যে এক বছর চার মাস অতিবাহিত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী অন্যান্য ইউনিয়নে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি দেওয়া হলেও লক্ষ্যারচরকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। তৃণমূল কর্মীরা এখন সম্মেলনের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব চায়।” একই ধরণের সুর শোনা যায় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব কামাল উদ্দিনের কণ্ঠেও। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান কমিটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কিছু ব্যক্তির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অনভিপ্রেত বক্তব্যের কারণে দল বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। দলের সাংগঠনিক ইমেজ পুনরুদ্ধার ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত কাউন্সিল ও নতুন কমিটি গঠনের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে এই চাপা উত্তেজনা ও অসন্তোষের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হককে পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন বিএনপির নতুন ও শক্তিশালী কমিটি ঘোষণা করা হবে।”
তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের দাবি, ‘রহস্যময়’ কারণে পুরোনো নেতৃত্বকে আর আঁকড়ে না রেখে দলের দুর্দিনের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। তাঁরা লক্ষ্যারচর বিএনপিকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে দ্রুত জেলা ও উপজেলা বিএনপির কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।