কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে জরুরি সিজারিয়ান অপারেশন সেবা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স থাকলেও গাইনি ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রসূতিদের এই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
একইভাবে হাসপাতালে এইচজিএসপি প্রকল্পের খুঁড়িয়ে চলা এক্স-রে সুবিধা বন্ধ রয়েছে প্রায় দুই মাস যাবত। এক্স-রে টেকনিশিয়ান না থাকায় দ্বীপের দেড় লাখ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে এক্সরে সেবা থেকে।
হাসপাতালে আগত রোগী রেনুয়ারা বেগম বলেন, ডাক্তারে বুকের এক্স-রে করতে বলেছেন। এখানে নাই। আগে ২০০ টাকায় এক্সরে করা যেত হাসপাতালে, প্রাইভেট ক্লিনিকে করতে ৫০০ টাকা লাগবে।
হাসপাতালের সাপোর্ট স্টাফ নজরুল ইসলাম বলেন, রেডিওগ্রাফার নাই প্রথম থেকেই। নতুনভাবে উদ্বোধনের পর তিনি মেশিন অপারেট করতেন। এক্স-রে কক্ষে রেডিয়েশন সেফটির ব্যবস্থা নাই। দামি যন্ত্রপাতি সুরক্ষায় পর্যাপ্ত এসি নেই। তিনি অল্প দিনেই অসুস্থ অনুভব করায় এক্স-রে বিভাগ বন্ধ রয়েছে।
হাসপাতালে কর্মরত ডা: মো: নেছারুল করিম জানান, বেসরকারি সংস্থার আইএসও প্রকল্পের আওতায় গত ৬ মাস আগে একজন এনেস্থিসিয়া চিকিৎসক দেয়া হয়। কিন্তু গাইনী সার্জন দেয়া হয়নি । ফলে অত্যাধুনিক ওটি রুম থাকলেও সিজারিয়ান ডেলিভারি বন্ধ আছে। নরমাল ডেলিভারি নিয়মিত চালু রয়েছে ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা: রেজাউল হাসান বলেন, দক্ষ গাইনি সার্জন না থাকায় সিজারিয়ান ডেলিভারি বন্ধ রয়েছে। এক্স-রে কক্ষে সেফটি ওয়াল নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার লোক এসেছিল। পূনরায় এক্স-রে বিভাগ চালুর জোর চেষ্টা চলছে। শয্যা সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে নতুন ভবণ নির্মানের অনুমোদন মেলার কথা জানান তিনি।
এ দিকে দ্বীপে সরকারি হাসপাতালে জরুরি সেবা ডেলিভারির রোগীর সিজারিয়ান অপারেশন পূণরায় চালু না করে বরং সার্জারি বিভাগের এনেস্থিসিয়া চিকিৎসককে জেলা সদর হাসপাতালে সংযুক্ত করার আদেশ এসেছে বলে জানা গেছে। সামনে বর্ষা মওসুমে ডেলিভারি রোগীদের দ্বীপের বাহিরে চিকিৎসা নেয়া চরম ভোগান্তি কমাতে সার্জারি বিভাগ চালুর দাবি জানান সাধারণ মানুষ।