দীর্ঘদিনের দাবি ও জনআকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হিসেবে মাতামুহুরীকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপি।
রবিবার (১৭ মে) বিকেলে বদরখালীস্থ উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ বদরী, সাধারণ সম্পাদক হেফাজুতুর রহমান চৌধুরীসহ ৭টি ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী বলেন, মাতামুহুরীকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে অনুমোদন দেওয়ায় সরকারের এই সিদ্ধান্ত উপকূলীয় জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে।
তিনি বলেন, নতুন উপজেলা গঠনের ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রশাসনিক সেবাসহ সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এখন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে মাতামুহুরীকে একটি আধুনিক, কার্যকর ও শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামোয় রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মাতামুহুরী একটি সম্পূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় এখানকার জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বাস্তবতা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন। তাই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
উপজেলার প্রশাসনিক অবকাঠামো কোথায় স্থাপন করা হবে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ বদরী বলেন, “মাতামুহুরী উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম কোথা থেকে পরিচালিত হবে, সেটি আমাদের ন্যাশনাল লিডার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদই নির্ধারণ করবেন। এই উপজেলার স্বপ্ন তিনিই দীর্ঘদিন ধরে ধারণ করেছেন এবং বাস্তবায়নও করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি সাত ইউনিয়নের মানুষের সুবিধাজনক স্থান বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেবেন।”
তিনি আরও বলেন, মতানৈক্যে না গিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত উপজেলা অবকাঠামো ভবিষ্যতে মাতামুহুরীকে একটি পরিকল্পিত প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শেষে আয়োজিত আনন্দ মিছিলটি বদরখালী এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাসূচক বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন উপজেলা গঠনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন অবহেলিত উপকূলীয় এই অঞ্চলে নাগরিক সুবিধা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সেবা আরও বেগবান ও ত্বরান্বিত হবে।