প্রতিটি প্রকল্পের কার্যক্রমে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের ভূল তথ্যের কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জন্মনিবন্ধন, জাতীয় সনদ, ভোটার
তালিকায় অর্ন্তভুক্তির জন্য বিভিন্ন কাগজপত্র ও সুবিধাভোগীদের নাম অর্ন্তভুক্তিতে ভূল তথ্যের কারণে আটকে যাচ্ছে সেবামূলক কার্যক্রম। কারো
নামের স্থলে লেখা হচ্ছে পিতার নাম, স্বামীর নামের স্থলে লেখা হচ্ছে অন্য নাম।
ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের ভূলের কারণে সাধারণ মানুষের দূর্ভোগের শেষ নেই। সম্প্রতি ইজিজিপি প্রকল্পের শ্রমিকদের চুড়ান্ত তালিকা থেকে কক্সবাজার জেলায় ভূল তথ্যের কারণে ৫৩৭৪ জনের নাম ফেরত এসেছে। যা মোট শ্রমিকের প্রায় ৩৩ শতাংশ। চুড়ান্ত তালিকায় ৯ উপজেলায় শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ২০৫৭৫ জন। এর মধ্যে আবেদন করেছেন ১৫১৬৮ জন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চকরিয়া উপজেলায় মোট শ্রমিক আবেদন করেছিলেন ১৮৬৯ জন। ভূল তথ্যের কারণে ফেরত এসেছে ১০১২ জনের নাম। যা অর্ধেকেরও বেশী।
কক্সবাজার সদর উপজেলায় ফেরত এসেছে ৩২০ জন। মহেশখালীতে ফেরত এসেছে ১২৮২ জন। উখিয়া উপজেলায় ৬৫৭ জন। এভাবে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই বিপুল সংখ্য
আবেদন ভূল তথ্যের কারনে ফেরত এসেছে। এছাড়া জন্মনিবন্ধন করলেও একই সমস্যায় পডতে হয়। অনেক সময় পিতার নামের পরিবর্তে লিখে দেওয়া হয় স্বামীর নাম কিংবা ভাইয়ের নাম। পরবর্তিতে এসব সংশোধন করলেও অনেক সময় ভূল করে ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্যসেবা কেন্দ্রের দায়িত্বরতরা। সংশোধন করতে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। তারপরও কোন সুরাহা হয়না। ভোটার তালিকা করতেও এই সমস্যা। অনেকেই চাকরি পেয়ে বহুমূখী সমস্যায় পড়েছেন এসব ভূল তথ্যে কারণে।
স্কুল শিক্ষিকা রেহেনা আকতার বলেন, আমার মেয়ে স্কুলে ভর্তি হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী শুধু মেয়ের জন্মনিবন্ধন লাগবে। পরিষদে জন্মনিবন্ধন করতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছি। মেয়ের আগে আমার ও স্ত্রীর জন্মনিবন্ধন করেছি। সনদ পেয়েছি। এখন দেখি সব ভুল। এই সনদ পেতে গত ১৫ দিন ধরে নানা হয়রানির শিকার হয়েছি।
এখন আবার সংশোধনী জমা দিতে এলাম। এসে জানতে পারলাম সংশোধনী হয়ে আসতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগবে। তাহলে মেয়ের জন্মনিবন্ধন করবো কবে? এদিকে স্কুলে ভর্তির সময়সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ছোট একটা কাজে এতো ভোগান্তি! শুধু আমি নয়, আমার মতো শত শত লোক প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন। বেশির ভাগেরই
নাম-ঠিকানা ভুল। অনলাইনে নিবন্ধনের একাধিক ধাপ থাকায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
ইজিজিপি ধলঘাটা ইউনিয়নের ইজিজিপি প্রকল্পের শ্রমিক করিমদাদ জানান, অনেক কষ্ট করে কাগজপত্র জোগাড় করে আবেদন করেছিলাম। এখন ফেরত এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জানানো হয়েছে তার মোবাইল নাম্বার ভুল হয়েছে। আবার সংশোধন করে আবেদন করতে হবে। ভুল করেছে তথ্য সেবা কেন্দ্রের দায়িত্বরতা। এদিকে
হয়রানির শিকার হচ্ছি। যারা শ্রমিক হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদের অধিকাংশই অসহায়।
জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নান জানিয়েছেন, তথ্য ভূল হয়, বিষয়টি আমরা অবগত আছি। এ বিষয়ে সতর্কতার সাথে তথ্যগত ভূল যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।