বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ৩ জনের মৃত্যুর শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পরিত্যক্ত মর্টারশেল বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছে ১২ বছরের এক কিশোর। এ নিয়ে মাত্র ৮ দিনের ব্যবধানে সীমান্তে চার তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষের মৃত্যু হলো।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সীমান্তের তুইঙ্গাঝিরি বিওপি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ২৪ মে পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে আরও তিন তঞ্চঙ্গ্যা নিহত হয়েছিলেন।
৩৪ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি ৩৯ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন জিরো লাইনে পরিত্যক্ত একটি মর্টারের গোলা বিস্ফোরণে ওই বাংলাদেশী কিশোর নিহত হয়। নিহত কিশোরের নাম সতনাইং তঞ্চঙ্গা (১২)। সে ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাড়ি পশ্চিম পাড়ার কিংহ্লা তঞ্চঙ্গার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৪ বিজিবির আওতাধীন তুইঙ্গাঝিরি বিওপি এলাকার আন্তর্জাতিক জিরো পয়েন্ট পার হয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে কিশোর সতনাইং পরিত্যক্ত মর্টারশেলটির সংস্পর্শে আসে এবং সেটি বিস্ফোরিত হয়।
তুইঙ্গাঝিরি বিওপি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ৩৯ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে, জিরো লাইনের কিছুটা ভেতরে (মিয়ানমার সীমান্তে)। বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিহত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে বাইশফাঁড়ী গ্রামে নিয়ে আসেন।
এর মাত্র আট দিন আগে, গত ২৪ মে ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী এলাকায় একটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তিন তঞ্চঙ্গ্যার মৃত্যু হয়েছিল। পরপর দুটি বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে এবং জিরো লাইনের আশেপাশে কাউকে না যাওয়ার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৩৪ বিজিবি-এর অধিনায়ক লে কর্নেল মো. খাইরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও কিছু স্থানীয় বাসিন্দা এবং চোরাকারবারিরা রাতের অন্ধকারে বা জঙ্গলের ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করে সীমান্ত পার হচ্ছেন। এর ফলেই বারবার এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।'
তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে ৩৪ বিজিবি নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করে আসছে। তবুও নিষেধ অমান্য করে নো-ম্যান্সল্যান্ডে যাওয়ার কারণে মূল্যবান প্রাণহানি ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমানে অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ ও দুর্ঘটনা রোধে বিজিবি সীমান্তে টহল দ্বিগুণ করার পাশাপাশি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।