বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আবারও প্রাণঘাতী স্থলমাইন বিস্ফোরণ। রোববার (২৪ মে) দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের শূন্য লাইনে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন তিন পাহাড়ি বাংলাদেশি নাগরিক।
বিজিবি বলছে, কাঠ সংগ্রহের জন্য সীমান্ত অতিক্রম করতেই তারা মাইনের কবলে পড়েন। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। একই সঙ্গে শূন্য লাইন, কাঁটাতারের বেড়া ও সীমান্তসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চল। পাহাড়, ঝোপজঙ্গল আর দুর্গম পথ ঘিরে এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা। জীবিকার তাগিদেই প্রতিদিন সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ে যান স্থানীয়রা। কিন্তু এই সীমান্তের মিয়ানমার অংশের শূন্য লাইনে পুঁতে রাখা আছে অসংখ্য স্থলমাইন। আর সেই মাইনই কেড়ে নিচ্ছে একের পর এক প্রাণ।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত পিলার ৪১ ও ৪২-এর মধ্যবর্তী এলাকায় রোববার দুপুরে কাঠ সংগ্রহ করতে যান তিন পাহাড়ি বাংলাদেশি নাগরিক। একপর্যায়ে তারা শূন্য লাইন অতিক্রম করলে স্থলমাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েই তারা মাইনের বিস্ফোরণের শিকার হন।
নিহতরা হলেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের সুনইয়ং চাকমার ছেলে লেঠাইয়া চাকমা (৪১), নিওমং চাকমার ছেলে অংক্যামং চাকমা (৫০), অইমং চাকমার ছেলে চিংক্যা অং চাকমা (৪০)।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সাধারণ মানুষকে শূন্য লাইন, কাঁটাতারের বেড়া এবং সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যাতায়াত না করার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন।
বিজিবির রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, তাদের মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। কি কারণে তারা সীমান্তে গেল এব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। সীমান্তে টহল জোরদারের পাশাপাশি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি।
গত দেড় বছরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে প্রায় ২০ জন পা হারিয়েছেন। প্রাণ গেছে অন্তত ৪ জনের।