বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই হাসান মুরাদকে মনে করা হচ্ছে ভবিষ্যতের টেস্ট বোলার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করে অবশেষে টেস্টে তা পা পড়েছে গত নভেম্বরে। অভিষেক সিরিজে দুর্দান্ত বোলিংও করেছেন। কিন্তু পরের টেস্টের স্কোয়াডেই জায়গা পাননি বাঁহাতি এই স্পিনার। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার তার প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে বললেন, কৌশলগত কারণেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
চট্টগ্রামে হাবিবুল যখন এসব কথা বলছিলেন, বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংস তখন শেষ। রঙিন পোশাকের সিরিজের মধ্যেই চলছিল সাদা পোশাকের দল নিয়ে কাটাছেঁড়া।
আগের দিন রাতে ঘোষণা করা হয় পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের বাংলাদেশ স্কোয়াড। সেখানে তানজিদ হাসান ও অমিত হাসানের মতো দুটি নতুন মুখের সুযোগ পাওয়ায় সম্ভবত ততটা চমক নেই, যতটা আছে মুরাদের বাদ পড়ায়। অভিষেক সিরিজের আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টে তার প্রাপ্তি ছিল ১২ উইকেট। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে এই বাঁহাতি স্পিনারকে বাইরে রেখে ফেরানো হয়েছে অফ স্পিনার নাঈম হাসানকে।
হাবিবুল বললেন, নাঈমের ক্ষেত্রে আগে যেমনটি হয়েছিল, এবারও তারা একই কারণেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুরাদকে নিয়ে।
“পুরোপুরি ট্যাকটিক্যাল কারণ। পারফরম্যান্স কোনো ইস্যু ছিল না, কারণ হাসান মুরাদ খুবই ভালো বল করেছে গত সিরিজে। কিন্তু পাকিস্তান দল দেখে, যেখানে আমরা দেখেছি, বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের আধিক্য টপ অর্ডারে। এজন্য আমরা ভেবেছি হাসান মুরাদের চেয়ে নাঈম হাসান... সেও (নাঈম) কিন্তু যখন বাদ পড়েছিল, তখন ফর্মের কারণে বাদ পড়েনি, ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্তে তখন দলে আসেনি। এবারও একদমই ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত।”
বাংলাদেশের স্কোয়াডে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আছে পেস আক্রমণেও। দেড় বছর পর ফিরেছেন দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। বাদ পড়েছেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। চোট কাটিয়ে গত বছর ফেরার পর দুই টেস্টে ভালো না করলেও টিকে গেছেন ইবাদত হোসেন চৌধুরি।
হাবিবুল জানালেন, এখানেও মূলত কৌশলগত ব্যাপারই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
“আমাদের এখানে আসলে আলোচনাটা বেশি হয়েছে খালেদ আর এবাদতকে নিয়ে। তাসকিন অটোমেটিক চয়েজের মতো। তাসকিন, (নাহিদ) রানা, আমরা শরীফুলকে দেখতে চাই, কারণ টেস্ট ম্যাচে সেও দলের জন্য ভালো সম্পদ, ভালো বোলিং করছে।”
“এবাদত আর খালেদের মধ্যে আমাদের একটু কথা ছিল।শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে, খালেদ অনেক লাইন-লেংথ ধর রাখতে পারে, ইবাদত উইকেট শিকারি বেশি। আমরা ওইদিকে গিয়েছি। খালেদ খারাপ বোলিং করেনি, বেশ ভালৈা বল করেছে। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হয়েছে, ইবাদত বেশি আগ্রাসী বোলার টেস্টে।”
মূলত চোট সমস্যা ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে এত লম্বা সময় টেস্ট থেকে বিরতি নিয়েছিলেন তাসকিন। প্রধান নির্বাচক জানালেন, এখন থেকে আবার তিন সংস্করণেই তারা বিবেচনা করবেন অভিজ্ঞ এই পেসারকে। তবে সব ম্যাচেই তাকে খেলানো হবে না।
“তাসকিন ফিট। টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য ফিট, সেটা আমাদের কাছে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে অনেকদিন ধরে খেলছে না বটে, তবে আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে সে নিজের সেরা অবস্থায় আছে। টেস্ট ম্যাচ যখন খেলেছে, খারাপ খেলেনি।”
“তাসকিনকে নিয়ে যে পরিকল্পনা করেছি, ওকে আসলে আমরা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাব। ওর ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে, টেস্ট খেলাব। এভাবে ম্যানেজ করলে আমরা খেলাতে পারব। তাসকিনের একটা ব্যাপার আছে, সে খেলার জন্য খুব আগ্রহী। (নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে) এই টি-টোয়েন্টি সিরিজটাও খেলতে চেয়েছিল, কিন্তু যেহেতু ও আমাদের টেস্টের পরিকল্পনায় আছে, তাই টি-টোয়েন্টি সিরিজে রাখিনি। হি ইজ গুড, হি ইজ ওকে।”
বাদ পড়ার তালিকায় আছেন কপার-ব্যাটার জাকের আলি, যাকে নিয়ে তেমন কোনো প্রশ্ন নেই। চোটের কারণে পেসার হাসান মাহমুদকে এই সিরিজে বিবেচনা করা হবে না বলেও নিশ্চিত করেন প্রধান নির্বাচক।
হাবিবুল জানালেন, বাদ পড়াদের সঙ্গে কথা বলে কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। ঢাকায় ফিরে সামনাসামনিও আলোচনা করবেন তারা।
“আমি চট্টগ্রামে আছি, কাজেই সামনাসামনি কথা বলতে পারিনি। মাঝখানে দুই দিনের জন্য গিয়েছিলাম (ঢাকায়), ওরা ঢাকার বাইরে ছিল। জাকের আলির সঙ্গে কথা বলেছি। ফিরে যাওয়ার পর আবার সামনাসামনি বসব। তবে জানানো হয়েছে কেন সে বাদ পড়েছে।”
“হাসান মুরাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, অধিনায়কও কথা বলেছে। আমি গিয়ে সামনাসামনি কথা বলব। খালেদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। আমি ওদেরক ব্যাখ্যা করেছি, তবে সামনাসামনিও বসব, যখন (ঢাকায়) ফিরে যাব।”