পারভেজ সিদ্দিকী, নির্বাহী পরিচালক, উইটনেস ফাউন্ডেশন
কক্সবাজারের মতো উপকূলীয় সীমান্তবর্তী অঞ্চল অতীতে যেমন মানব পাচারের ভয়াবহতার মুখোমুখি হয়েছে, তেমনি বর্তমানেও এটি অভিবাসন ও মানব পাচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে। এই বাস্তবতায় অভিবাসন শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনয়ন, দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর প্রয়োগ অত্যন্ত আবশ্যক।
মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, কক্সবাজারে সংঘটিত অভিবাসন সংক্রান্ত প্রতারণা ও অভিযোগের প্রায় ৯৯ শতাংশই ঘটে স্থানীয় সাব-এজেন্ট বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে। তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ অভিবাসী কর্মীরা প্রধান বা বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানেন না। ফলে তারা স্থানীয় ব্যক্তি বা আত্মীয়-স্বজনদের ওপর নির্ভর করে চুক্তিপত্র ছাড়াই অর্থ লেনদেন করেন এবং প্রতারণার শিকার হলে আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন।
তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ের বিরোধ নিস্পত্তি ব্যবস্থা। ইপসা, রামরু, ওয়ারবিও উইটনেস ফাউন্ডেশনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গত এক বছরেই ইউনিয়ন পরিষদভিত্তিক বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ১,৪১৪টি মামলা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসীদের প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করে দেওয়া হয়েছে। সমাধান হওয়া এসব অভিযোগের সিংহভাগই ছিল স্থানীয় সাব-এজেন্টদের বিরুদ্ধে, যা প্রমাণ করে যে আইনি জটিলতা এড়িয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির প্রভাব কতটা গভীর।
তবে কেবল স্থানীয় পর্যায়ের সমাধানে সীমাবদ্ধ থাকলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সরকারি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সঠিক ও স্বচ্ছ তথ্য প্রদান করতে হবে। বিদেশে অপ্রমাণিত বা অনিশ্চিত কর্মসংস্থানের তথ্য প্রচার না করে প্রকৃত শ্রমবাজার বিশ্লেষণ করে প্রবাসীদের সঠিক তথ্য জানানো জরুরি। একইসঙ্গে সুন্দর আইন তৈরির পাশাপাশি এর বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতি দূর করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর গুলোর জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে এবং যাদের জন্য আইন ও নীতি তৈরি করা হচ্ছে, সেই অভিবাসী কর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করেই টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।