বার্তা পরিবেশক
কক্সবাজারের ইনানীতে প্রায় ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত বে হিলটন বিচ রিসোর্টের চারতলা ভবনে গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মালিক পক্ষ। প্রয়োজনীয় নকশা অনুমোদন ও জমির কাগজপত্র থাকার দাবি সত্ত্বেও ভবনটিতে ভাঙচুরের ঘটনায় পক্ষপাত, ষড়যন্ত্র এবং প্রভাবশালী মহলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মালিকপক্ষ। তাঁদের দাবি, যথাযথ শুনানি ও নিরপেক্ষ যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ কেবল একজন বিনিয়োগকারীর ক্ষতি নয়, কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে বিনিয়োগের পরিবেশের জন্যও অশনি সংকেত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) কক্সবাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে 'বে হিলটন বিচ রিসোর্ট' ইনানী কর্তৃপক্ষের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে হোটেল মালিক শহীদুল হকের পক্ষে বক্তব্য দেন ম্যানেজার জসিম উদ্দিন ও দিদারুল আলম। তাঁরা কউকের উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ছয় কোটি টাকার বিনিয়োগ, পরিণতিতে ভাঙচুরের অভিযোগ পর্যটননগরী কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন ইনানীতে বে হিলটন বিচ রিসোর্ট নির্মাণে প্রায় ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি মালিক শহীদুল হকের। তাঁর বক্তব্য, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত দলিল, নামজারি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন পর কউক ভবনটিকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এর মধ্যেই ২৬ অক্টোবর সকালে ভবনটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে।
মালিকপক্ষের প্রশ্ন, ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি থাকলে নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর মাধ্যমে পরীক্ষা, কারিগরি ত্রুটি চিহ্নিতকরণ এবং আইনানুগ শুনানির সুযোগ নিশ্চিত না করে কেন এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো? কোনো ভবন সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ হলে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই জরুরি। কিন্তু সেই ব্যবস্থার ধরন, আইনগত ভিত্তি এবং বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও সমানভাবে স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।
অনুমোদনের নথি দেখিয়ে মালিকের দাবি
কউকের চেয়ারম্যানের কাছে ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া লিখিত জবাবে শহীদুল হক ভবনটির মালিকানা ও নির্মাণ অনুমোদনের পক্ষে বিভিন্ন নথির উল্লেখ করেছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমির মূল মালিক ছিলেন জাকির হোসেন। ২০০১ সালের ৪ এপ্রিল নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে কহিনুর শওকত জমিটির মালিকানা লাভ করেন। পরে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট ১৫৩২ নম্বর নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে কহিনুর শওকত ভবন ও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি শহীদুল হকের কাছে বিক্রি করেন। এরপর তাঁর নামে নামজারি করা হয় এবং নিয়মিত উন্নয়ন কর পরিশোধ করা হচ্ছে বলে লিখিত জবাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মালিকপক্ষের দাবি, ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি ১ নম্বর জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নকশা অনুমোদন করে এবং একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর নির্মাণের অনুমতি দেয়। সেই অনুমোদনের ভিত্তিতেই ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
শহীদুল হকের ভাষ্য, কউকের নির্দেশে অনুমোদিত নকশা দাখিল করা হলে নকশার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। পরিষদ ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি লিখিতভাবে নকশার সত্যতা নিশ্চিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনাপত্তি সনদ নেওয়ার কথাও লিখিত জবাবে বলা হয়েছে।