কক্সবাজারের কুতুবদিয়া সমুদ্রসৈকতে ভেসে এলো বিশালআকৃতির একটি মৃত তিমি।
শনিবার (০৭ মার্চ) রাত ৯টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের পশ্চিমে সমুদ্র সৈকতে এটি ভেসে আসে। কিন্তু দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় মৃত তিমিটিকে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
জেলেদের বরাত দিয়ে দক্ষিণ ধূরুং ইউপির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে জেলেরা মাছ শিকারের সময় বিশাল আকৃতির তিমিটি দেখতে পান। তারা প্রথমে কয়েকটি ট্রলার মিলে রশি দিয়ে টেনে কুতুবদিয়া উপকূলের কাছাকাছি নিয়ে আসেন। পরে তিমিটি মৃত এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তাই কুতুবদিয়া উপকূলের কাছাকাছি সাগরে ভাসমান অবস্থায় ফেলে চলে যান। পরবর্তীতে তিমিটি জোয়ারের পানিতে ভেসে কুতুবদিয়া পশ্চিম সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে আটকে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মৃত তিমিটি ধীরে ধীরে ফুলে ওঠে। এ অবস্থায় মাছের দেহে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস তৈরি হয়, যেমন হাইড্রোজেন ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস। এসব গ্যাস থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। একটি স্কেভেটর দিয়ে বালিয়াড়ি গর্ত তৈরি করি এবং একঘণ্টার চেষ্টায় তিমিটি গর্তে পুঁতে ফেলা হয়েছে।’
চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘তিমিটি যেভাবে ফুলে গেছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, এর ওজন দুই থেকে তিন টনের বেশি হতে পারে এবং দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মিটার হতে পারে।’
আলাউদ্দিন আল আজাদ আরও বলেন, ‘এ ধরনের কাজ সাধারণত উপজেলা প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদফতরের মাধ্যমে করা হয়। তবে আমাদের এলাকায় বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত না থাকায় দ্রুত কারও সঙ্গে পরামর্শ করার সুযোগ ছিল না। তাই স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ববোধ থেকে এলাকাবাসীর স্বার্থে আমরা নিজেরাই দ্রুত এই উদ্যোগ নিয়েছি।’
কারণ, মৃত তিমিটি ফেটে গেলে তা থেকে প্রচণ্ড গ্যাস বের হতে পারে, অনেক সময় বিস্ফোরণের মতো শব্দও হতে পারে। এতে আশপাশের মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আমরা দ্রুত এটিকে মাটিচাপা দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি বলেও জানান আলাউদ্দিন আল আজাদ।
কুতুবদিয়া থানার পরিদর্শক মাহবুবুল হক বলেন, ‘কুতুবদিয়া পশ্চিম সৈকতে মৃত তিমি ভেসে এসেছে এ ধরণের তথ্য জানা ছিল না। পরে রাতে বিষয়টি জেনেছি। তবে, মৃত তিমি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এ কারণে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও লোকজন মিলে তিমিটিতে বালিয়াড়িতে গর্ত করে পুঁতে ফেলেছি।’