রমজান মাসে চাহিদা বাড়ায় আপেল, মাল্টা, আঙুর ও খেজুরসহ প্রায় সব ধরনের বিদেশি ফলের দাম বেড়ে যায়।
পাইকারি বাজারে উচ্চ মূল্য, সরবরাহ ঘাটতি, এবং অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে খুচরা বাজারে ফলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, এমনটাই দাবি খুচরা ব্যবসায়ীদের। আর ভোক্তারা বলছেন, রোজার আগে সব জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় যেন নিয়ম। এবারও সেই প্রবণতা বজায় আছে। সরকারের নজরদারি জরুরি।
রমজান শুরুতে সব ফলের দাম কেজিতে ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা করে বেড়েছে। ৫ রোজার পরে কিছুটা কমলেও গত শুক্রবার থেকে আবার বেড়েছে ফলের দাম।
শনিবার ( ৭ মার্চ) খুচরা বাজার ঘুরে যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি কমলা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩৪০- থেকে ৩৫০ টাকায়। এছাড়া ফুজি আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা এবং সবুজ আপেল ৪৫০ টাকা, মাল্টা ৩২০ টাকা, মেন্ডারি ৩২০ টাকা,
কালো আঙ্গুর ৬৫০ টাকা, লাল আঙ্গুর ৬৫০ টাকা, সবিজ আঙ্গুর ৪৮০ টাকা, আনার ৬০০ টাকা, নাশপতি ৪০০ টাকা, পেঁপে ১৩০ টাকা পেয়ারা ১২০ টাকা। ঘুনগাছ তলা, প্রধান সড়ক আল ইশবা ফ্লুট শপের দাম যেন সব দোকানকে ছাড়িয়ে গেছে। এই দোকানের শনিবারের তালিকায় সব ফ্লুটের দাম অন্যদের চেয়ে কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়তি। এই দোকানে সবিজ আপেল ৪৮০ টাকা, রয়েল আপেল ৪৫০ টাকা, ফুজি আপেল ৩৮০ টাকা, কমলা ৩৫০ টাকা, নাশপতি ৪৮০ টাকা, আনার ৬৫০ টাকা, আঙ্গুর ( লাল) ৭৫০ টাকা, সবুজ আঙ্গুর ৫০০ টাকা, কালো আঙ্গুর ৬৫০ টাকা, স্ট্রবেরি ১২০০ টাকা, আম্বর খেজুর ১৮০০ টাকা, মরিয়ম খেজুর ১৯০০ টাকা, আজোয়া খেজুর ১৪০০ টাকা, পেঁপে ১৫০ টাকা আনারস ১ টি ৮০ টাকা, কাঠ বাদাম ১৬০০ টাকা, কাজু বাদাম ২০০০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, 'রোজার চাহিদা বৃদ্ধি'র কারনে, দাম বেড়েছে। এছাড়া পরিবহন খরচও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ার কারণে তারা চাপের মুখে পড়েছেন।'
দাম বেশি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আল ইশবা ফ্লুট শপের দোকানের মালিক মহিম বলেন, 'গত কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি কার্টনে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া প্রতি কার্টনে ৭০ টাকা করে পরিবহন খরচ আছে। এজন্য কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বাড়তি। চট্টগ্রামের ফল মন্ডিতেও ফলের দাম বাড়তি। তার উপর ভিত্তি করে কেজিতে ৫-১০ টাকা ব্যবসা হয়।'
শিহাব ফল বিতানের ম্যানেজার মামুন বলেন, '১৮ কেজি ওজনের ফুজি আপেল ক্রয় করতে হয়েছে ৬ হাজার টাকায়। গত এক সপ্তাহে আগে এর দাম ছিল ৫ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া পরিবহন খরচও যোগ করতে হয়।'
চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডের ফলমণ্ডি পাইকারি বাজারের তথ্য নিয়ে জানা যায়, ১৫ কেজির মাল্টার দাম পাইকারিতে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি কেজির দার ২৩৫ টাকা। ১০ কেজির সবুজ আঙুরের কার্টন বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়, প্রতি কেজির দাম পড়ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। ১০ কেজির কালো আঙুর বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা, কেজিতে দাম পড়ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। চীন থেকে আমদানি করা ২০ কেজির আপেলের কার্টন বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা; প্রতি কেজির দাম পড়ছে ২২৫ থেকে ৩০০ টাকা৷ এছাড়া ১৮ কেজির আপেলের কার্টন বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৫০০ টাকা; প্রতি কেজির দাম পড়ছে ২৭৮ টাকা। ৯ কেজির নাশপাতির কার্টন বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা, কেজি প্রতি দাম পড়ছে ৩৩৫ টাকা। ৮ কেজি কমলার কার্টন বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকা, কেজি প্রতি দাম পড়ছে ২৫০ টাকা। সপ্তাহ আগে দাম ছিল আর-ও কম।
প্রধান সড়কের এস আলমের মাঠে মেসার্স নুরুল আলম ফল বিতানের পাইকারি ব্যবসায়ী নুরুল আলমের স্টোরএ গিয়ে দেখা যায়, শনিবারের দাম অনুযায়ী ১২ কেজি ওজনের কার্টন প্রতি মাল্টা ৪০০০ হাজার টাকা। অর্থাৎ, কেজিতে ৩৩৩ টাকা। ফুজি আপেল প্রতি কার্টন ৫ হাজার ৭০০ টাকা, হানি ফুজি ৪ হাজার ৪০০ টাকা, কমলা ৫ হাজার ৪০০ টাকা।
নুরুল আমিন এই প্রতিবেদককে বলেন, 'রোজার সময় প্রচুর ক্রেতা আসে, কিন্তু পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকার কারণে, ফলের দাম বাড়তি। এছাড়া চট্টগ্রামের ফলমন্ডিতে গত কয়েকদিন থেকে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। '
নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, 'দেশের সবচেয়ে বেশি ফলের দাম কক্সবাজারে। এখানকার ব্যবসায়ীর ইচ্ছেমত দাম বাড়াচ্ছে। অথচ, প্রশাসনের কোন তদারকি নেই। চট্টগ্রামের ফলমন্ডি থেকে কত দামে ক্রয় করা হয়েছে, সেটার ভাউচার দেখলেই তো বলা যায়। তিনি বলেন, সপ্তাহে একবার ফলের দাম উঠানামা করে ঠিক, কিন্তু, কক্সবাজারের ফলের দাম কেন বাড়তি নেয়, প্রশাসন অভিযান চালালে বের হবে। কয়েকজন ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অহেতুক ফলের দাম বাড়ায়। '
কক্সবাজার ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, ভাই ভাই ফল বিতানের প্রোপাইটর মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ইন্ডিয়া থেকে আমদানি খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে, এজন্য দাম বেশি। এছাড়া, রমজানে ফলের চাহিদা বেড়ে যায়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় ফলের দাম বেড়ে যায়।
জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ বলেন, 'কাঁচা পন্যের উপরে সরকারিভাবে দাম নির্ধারন করা থাকেনা। তথ্যর ভিত্তিতে ফলের দোকানে গিয়ে ক্রয়ের ভাউচার চেক করা হবে। দামে কোন অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তিনি বলেন, প্রতিদিন কোন না কোন জায়গায় অভিযানে যেতে হয়। কিন্তু, আমাদের লোকবল সংকট। আমি একজন মানুষ কতটুকু করতে পারি। তিনি বলেন, ফল ব্যবসায়ীদের আগে থেকেই বলা হয়েছে, যেন তারা দোকানে মূল্য তালিকা প্রদশর্ন করেন। এছাড়া নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।