পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে চাঁদ রাতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে বসেছে ঈদ আনন্দ-উৎসব। সাগরপাড়জুড়ে গজল, হামদ, নাত, কাওয়ালিসহ ইসলামিক সংগীতে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। পাশাপাশি মেহেদী উৎসবসহ নানা আয়োজনে উৎসবে মেতে ওঠেন পর্যটক ও স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবনী পয়েন্ট, জাম্বুর মোড় এবং পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে একযোগে শুরু হয় এই আয়োজন। তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষ এতে অংশ নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাবনী পয়েন্টে ‘চাঁদ রাতের জলসা’র মাধ্যমে ঈদকে স্বাগত জানানো হয়। সন্ধ্যা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে অনুষ্ঠান, ভিড় বাড়তে থাকে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের। গজল, হামদ, নাত ও কাওয়ালির সুরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আয়োজক রায়হান কাশেমী জানান, দীর্ঘদিন পর আবার এমন আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় ইসলামিক সংগীতের মাধ্যমে ঈদকে বরণ করে নিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সবাই আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করছেন।
একই সময়ে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতেও ছিল বিশেষ আয়োজন। বিভিন্ন স্থানে ঈদের গান ও সংগীত পরিবেশনায় মুগ্ধ হন পর্যটকরা। কাসুন্দি রেস্তোরাঁর ম্যানেজার অং মারমা জানান, ঈদের ছুটিতে প্রতিদিনই এমন আয়োজন চলবে।
এদিকে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ ও জাম্বুর মোড়ে মেহেদী উৎসবে ভিড় করেন তরুণীরা। উৎসবমুখর পরিবেশে রাতভর চলে আনন্দ আয়োজন।
ঈদকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে, বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় তিন স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকের সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদে লক্ষাধিক পর্যটকের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।