আবু মোরশেদ চৌধুরী
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় শুধু শিক্ষিত নয়, বরং সুশিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা এখন সময়ের দাবি। বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, একাডেমিক ডিগ্রি ও পুঁথিগত জ্ঞান অর্জনই শিক্ষার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়; বরং নৈতিকতা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও চরিত্র গঠনের মাধ্যমে একজন মানুষ প্রকৃত অর্থে সুশিক্ষিত হয়ে ওঠেন।
তাদের মতে, শিক্ষিত ব্যক্তি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সার্টিফিকেটের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করেন। কিন্তু সেই জ্ঞান যদি আচরণ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধে প্রতিফলিত না হয়, তাহলে সমাজে তার ইতিবাচক প্রভাব অনেকাংশে কমে যায়,অসুস্থ হয়ে পড়ে সামাজিক অবকাঠামো। বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষিত অনেক ব্যক্তির দুর্নীতি, অনৈতিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে সুশিক্ষার অভাবের ফল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দৈনন্দিন জীবনেও প্রায়ই দেখা যায়, বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত শিক্ষিত ও অভিজাত মনে হলেও অনেকের আচরণে ভদ্রতা, সহনশীলতা ও মানবিকতার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যাকে অনেক সময় পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাব হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, সুশিক্ষিত ব্যক্তি শুধু তথ্যভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করেন না; বরং সেই জ্ঞানকে প্রজ্ঞা ও জীবনবোধে রূপান্তর করেন। তারা দায়িত্বশীল, সহনশীল ও ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে সমাজে পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখেন। একটি নৈতিক, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সুশিক্ষিত মানুষের বিকল্প নেই ।
সুশিক্ষা মানুষকে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়, যা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকল স্তরে নৈতিক শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্বারোপের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
তাদের মতে,শিক্ষা শুধু চাকরি বা অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়; বরং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি হওয়া উচিত । বিশ্লেষকদের ভাষায়, “শিক্ষা মানুষকে জ্ঞান দেয়, আর সুশিক্ষা মানুষকে মানুষ হতে শেখায়।”
তাই একটি উন্নত, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে শিক্ষিত মানুষের পাশাপাশি সুশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়ানো এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। বিশেষ করে বর্তমান যুবসমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হলে সুশিক্ষিত সমাজের বিকল্প নেই। তা না হলে প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সংলাপ, কৌশলের ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে যাব। কারণ মানুষ এখন শুধু বাহ্যিক পরিচয় নয়, বরং চরিত্র ও আচরণের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তিকে, একজন সমাজপতিকে মূল্যায়ন করবে।