টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় শহরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ক্ষেত ডুবে যাওয়া এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্যবাহী যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে সবজি মাছ ও মাংসের বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি কেজিতে ২০ - ৩০ টাকা বেড়েছে। স্থিতিশীল রয়েছে ভোজ্যতেল, চিনি, মসল্লাসহ বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম।
শনিবার ( ১১ জুলাই ) শহরের বড় বাজার, বাহারছড়া বাজার ও কানাইয়া বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র দেখা গেছে।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ থেকে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের ক্ষেত। একারণে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে ক্ষেত নষ্ট হয়েছে এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় বাজার কিছুটা চড়া রয়েছ। শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারনে সবজির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বৃষ্টির অজুহাতে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন।
বাজারগুলোয় সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই ঊর্ধ্বমুখী। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁকরোল মানভেদে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮ল৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, সজনে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধুন্দল হাইব্রিড ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ললিতা আলু ৩০ টাকা এবং দেশি আলু ৮০-১০০ টাকা এবং টমেটো ১৬০- ১৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে লাল শাক আঁটি প্রতি ৩০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাহারছড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা সরওয়ার বলেন, সবজির দাম সকালে এক রকম, বিকালে অন্য রকম। গত সপ্তাহের সঙ্গে দাম তুলনা করলে চলবে না। প্রতিদিনই দাম পরিবর্তন হয়। কৃষকের ফসলী জমি তলিয়ে গেছে, চাহিদা মত সবজি সরবরাহ করতে পারেনি। আবহাওয়া খারাপ হলে বাজারে সরবরাহ কমে যায়। তখন দাম বাড়ে; রোদ উঠলে আবার ঠিক হয়ে যাবে।
এছাড়া দেশি রসুন ৮০-১১০ টাকা, চায়না রসুন ১৬০-১৮০ টাকা, চায়না আদা ১৮০-২০০ টাকা, ভারতীয় আদা মান ভেদে ১৬০-১৮০ দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগী। বাজারে সোনালি কক মুরগি ৩৫০ টাকা, লাল লেয়ার ২৭০- ২৯০ টাকা, ব্রয়লার ১৭০-১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০-৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কানাইয়া বাজারের পাইকারি মুরগী ব্যবসায়ী নুরুল হক জানান, ব্রয়লার মুরগী কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।দেশী মুরগীর দাম আগে থেকেই বাড়তি এবং সোনালী সরবরাহ নেই। পাকিস্তানি লাল মুরগীর দাম আগের মতোই আছে।
সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম বেড়েছে। প্রতি ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। আর প্রতি ডজন সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। বড় বাজারের ডিম বিক্রেতা মোহাম্মদ খোরশেদ বলেন, খামার থেকে ডিমের দাম কিছুটা বেড়ে এসেছে। তাই খুচরা বাজারেও ১০ টাকা বাড়াতে হয়েছে।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকটি মাছের দাম বেশ চড়া। চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৮০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ ও ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মুর ঘুইজ্জা ৩৫০-৪০০ টাকা, বড় ঘুইজ্জা কেজি ৬০০ টাকা, রাম ফাইশ্যা ২৫০-৩৫০ টাকা, লইট্যা ২০০-২২০ টাকা, বাইল্যা ৬০০-৮০০ টাকা,
পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কৈ ফার্ম ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশ তো এখন সোনার হরিণ। ৮০০ থেকে ১০০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম হাকা হচ্ছে কেজি ১৮০০ টাকা থেকে ২২০০ টাকা। তবে কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম।
সাধারণ ক্রেতা এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৃষ্টির কারণে সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেও বাজারে যে হারে দাম বাড়ানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। নিয়মিত এবং কঠোর বাজার মনিটরিং না থাকার কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা আবহাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন।