বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (১৭ ইসিবি) দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবান জেলার দুর্গম বান্দরবান–থানচি, থানচি–আলীকদম এবং থানচি–রেমাক্রী–মদক–লিকড়ি সড়কের নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে।
সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ভৌগোলিক পরিবেশ, খাড়া পাহাড়, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কঠিন কর্মপরিস্থিতি সত্ত্বেও ১৭ ইসিবির সদস্যরা নিরলস প্রচেষ্টায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণের ফলে উল্লিখিত সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সড়কের ওপর জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে স্থানীয় জনগণের স্বাভাবিক যাতায়াত, জরুরি সেবা প্রদান এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। ভারী যন্ত্রপাতি ও আধুনিক প্রকৌশল সরঞ্জামের সহায়তায় সেনাসদস্যরা প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্নভাবে সড়কের ওপর জমে থাকা মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই নিরলস প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ লাঘব, জরুরি সেবা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করা।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ সচল রাখতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।