বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় চোরাকারবারীদের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিজিবির দুই সদস্য ও এক চোরাকারবারী আহত হয়েছেন।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে উপজেলার ফুলতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ রেইক্কাশিয়া পোস্ট সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে রেইক্কাশিয়া পোস্ট এলাকায় বিজিবির একটি টহল দল চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি বার্মিজ গরু নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল চোরাকারবারীদের একটি সংঘবদ্ধ দল। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় ল্যান্স নায়েক মো. রাজু ও সিপাহি মো. শরিফ নামে দুই বিজিবি সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে মো. ইসমাইল নামে এক চোরাকারবারীও আহত হন।
আহত বিজিবি সদস্যদের প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সদর দফতরের এমআই রুমে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে আহত চোরাকারবারী ইসমাইলকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বাতেন মৃধা বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. ইসমাইলসহ ১০ থেকে ২০ জন অজ্ঞাত চোরাকারবারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ইসমাইলের বিরুদ্ধে আগেও চোরাচালানের একাধিক মামলা রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চোরাকারবারীদের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।’