নিজের খেয়ালে ইরানের সঙ্গে যে যুদ্ধ বাধিয়েছেন, তা দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের শাসকগোষ্ঠী উৎখাতের যে ঘোষণা ট্রাম্প জোরগলায় দিয়েছিলেন, সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে তিনি কি যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন, নাকি ক্রমে বিস্তৃত হতে থাকা এই সংঘাত থেকে সরে দাঁড়াবেন?
নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্রুতই বুঝতে পেরেছেন, তার সামনে থাকা দুটো পথই বিপদে ভরা।
এখন ট্রাম্পের চোখের সামনে এমন অনেক পরিণতই ভেসে উঠছে, যেগুলো তিনি ইরানে হামলা শুরুর আগে একনজর দেখার প্রয়োজনও বোধ করেননি।
দুর্বল হয়ে পড়া একটি শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য হয়ত ট্রাম্পের আছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ইরান ঠিকই সৃষ্টি করতে পেরেছে।
তারা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজন দেশে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।
ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মানে হলো, মার্কিনিদের আরো রক্ত ঝরা; আরো অর্থ খরচ হওয়া এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়া।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যেও উদ্বেগ ও মতপার্থক্য রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর যে অঙ্গীকার ট্রাম্প করেছিলেন, তা তিনি রাখতে পারেননি।
ট্রাম্পের সামনে আরেকটি পথ আছে, সেটি ধীরে ধীরে পিছু হটার। সেক্ষেত্রে ইরান নিয়ে তার লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি বাহিনীর সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য হলো, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা দুর্বল করে দিতে পেরেছে।
আরেকটি অর্জন হলো, প্রায় ৪০ বছর ধরে ইরানের নেতৃত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে তারা হত্যা করতে পেরেছে।
তবে এসব অর্জনের পরেও বাস্তবতাটা হলো, ইরানে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রই ক্ষমতায় রয়ে গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প যদি যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে আরেকটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে ইরানের হাতে থাকা পারমাণবিক বোমা তৈরির রসদ।
অনেকের ধারণা, তেহরানের কাছে যে পরিমাণ রসদ রয়েছে, তা দিয়ে ১০টি বা তার বেশি পারমাণবিক অস্ত্র বানানো সম্ভব।
যুদ্ধ শুরুর সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক গভীরে মজুদ করা ওই রসদ উদ্ধার করতে স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
যুদ্ধে যত সময় গড়াচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের খরচের তালিকাও তত দীর্ঘ হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আর মোট নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ হাজার ১০০ জন, যাদের অধিকাংশই ইরানের নাগরিক।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়া নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, যুদ্ধ শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ, বিশেষ করে তেলের বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি নির্বিঘ্ন রাখতে শনিবারের মধ্যে ওই এলাকায় নৌবাহিনী মোতায়েন করতে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
সমুদ্রপথটি খোলা রাখতে ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যে যথেষ্ট নয়, অন্যান্য দেশের সহায়তা চেয়ে ট্রাম্প মূলত সেটাই স্বীকার করে নিলেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ট্রাম্প যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ও শেষ করা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেছেন। কখনো তিনি যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, কখনো আবার বলছেন, ‘যুদ্ধ এখনো অনেক বাকি’।
যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে ট্রাম্প প্রশাসন বুঝতে পেরেছে, ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সক্ষমতা তাদের ধারণার চেয়েও বেশি। এছাড়া ইরান আশপাশের এতগুলো দেশে হামলা চালাতে পারে, সেটাও ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাবে ছিল না।
ট্রাম্প একাধিকবার এটা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, যুদ্ধ প্রায় শেষ। কিন্তু একই সঙ্গে তাদেরকে অভিযান আরও জোরদার করতে হয়েছে।
সমালোচনা এড়াতে ট্রাম্পের সমর্থকরা বলছেন, এটি একটি জটিল সামরিক অভিযান; দুই সপ্তাহে এর মূল্যায়ন করাটা ঠিক হবে না।
শনিবার ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লিভিট বলেন, “ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যে হুমকি তৈরি করেছে, তা পুরোপুরি নির্মূলের স্বার্থে ট্রাম্প স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়েছেন। যদি যুক্তরাষ্ট্র বলতে পারে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা গেছে, তাহলে আধুনিক ইতিহাসে সেটা হবে যেকোনো প্রেসিডেন্টের জন্য বড় সাফল্য।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঘটলেও ইরান যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বেই।
ইরাকের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী হোশিয়ার জেবারি বলেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি যুগের অবসান ঘটেছে ঠিকই, কিন্তু সেটা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমাপ্তি ঘটায়নি।
তিনি বলেন, “ইরানিরা প্রতিরোধ গড়ছে, তারা সহনশীল। এটি প্রযুক্তি ও মতাদর্শের যুদ্ধ। এটি তাদের কাছে অস্তিত্বের প্রশ্ন।”
ইসরায়েলের সঙ্গে দূরত্ব
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলা শুরুর আগে ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে একটা বার্তা দেন।
তারা বলেন, যুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল করে দিতে পারলে কিংবা তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে সরিয়ে দিতে পারলে সেখানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জোরালো হতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, নেতানিয়াহু এই বার্তা সম্ভবত ট্রাম্পের কানে ঢুকিয়েছিলেন। কারণ, ইরানে হামলা শুরুর পর জাতির উদ্দেশে ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণে সেই সুরই ঘুরেফিরে এসেছে।
তিনি ইরানের সরকারবিরোধীদের উদ্দেশ করে সেদিন বলেন, “আমরা অভিযান শেষ করলে আপনারা নিজেদের সরকারের দায়িত্ব নিজেরাই নিয়ে নেবেন। সেটি আপনাদের দখলে থাকবে।”
কিন্তু বাস্তবে সেটা ঘটেনি। যুদ্ধ শুরুর পর গেল দুই সপ্তাহে তেহরানের বড় বড় চত্বরে কেবল সরকারপন্থিদের সমাবেশই দেখা গেছে।
যুদ্ধ নিয়ে মানুষের ক্ষোভ এবং স্কুলে হামলা চালানোর মতো মার্কিন বাহিনীর কিছু ভুল পদক্ষেপ ইরানে সরকারপন্থি এসব সমাবেশে রসদ জুগিয়েছে।
এখন ইরানের সরকারবিরোধীদের সক্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের মধ্যেও সংশয় তৈরি হয়েছে।
ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেন, ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ডস কোর্পস (আইআরজিসি) রাস্তায় নামা লোকজনকে হত্যা করতে পারে।
“তাই আমার মনে হয়, যাদের হাতে অস্ত্র নেই, তাদের জন্য এটা বড় বাধা। সত্যিই খুব বড় বাধা।”
যুদ্ধের লক্ষ্য কিংবা মূল্যায়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত আরো আছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখেছেন, এমন একাধিক কর্মকর্তার বরাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ট্রাম্প ও সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল কুপার— দুজনই তেহরানের বাইরে বড় তেলের ট্যাংকে হামলা না চালাতে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছিলেন।
তাদের আশঙ্কা ছিল, এমন হামলা হলে ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানতে পারে।
কিন্তু নেতানিয়াহু সেই পরামর্শ উপেক্ষা করেন। গত ৭ মার্চ ইরানের তেলের ডিপোতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।
হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, ইসরায়েলি নেতা হয়ত তেহরানকে ধ্বংসের কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন একটা নগরী হিসেবে দৃশ্যমান করতে চেয়েছিলেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলের ধারণা ছিল জ্বলন্ত ট্যাংক ইরানের নেতৃত্বের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। কিন্তু এর বদলে যা ঘটেছে তা হলো, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল শোধনাগার ও সংরক্ষণ স্থাপনায় ইরান আরো ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এসব হামলার জেরে শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তম রপ্তানি টার্মিনালগুলোর একটি ফুজাইরাহতে তেলের জাহাজিকরণ বন্ধ হয়ে যায়।
লেবাননে ইসরায়েলের দ্বিতীয় ফ্রন্ট মোতায়েন নিয়েও টানাপড়েন দেখা গেছে। সেখানে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে এসব হামলা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যুদ্ধের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতিও ঘটাচ্ছে।
কিন্তু নেতানিয়াহু বোঝাতে চাইছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহ অবিচ্ছেদ্য; ইরানের শাসক গোষ্ঠীকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে তাদের ওপর আঘাত হানার এটাই সেরা সময়।
গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে এসে নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রতিদিনই কথা হয়েছে। দুই নেতার মধ্যে নিয়মিত কথা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারাও।
নেতানিয়াহুর পাশাপাশি আরব নেতাদের সঙ্গে, বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ সালমানের সঙ্গেও ট্রাম্পের নিয়মিত কথা হয়।
কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, ট্রাম্পের প্রতি যুবরাজের মোটা দাগে পরামর্শটা হলো, ইরানে ‘কঠোর হামলা’ অব্যাহত রাখতে হবে।
এটি মূলত সৌদির প্রয়াত বাদশাহ আব্দুল্লার সে পরামর্শের প্রতিধ্বনি, যেখানে তিনি বলতেন ‘সাপের মাথা কেটে দাও’।
খার্ক দ্বীপ ও পারমাণবিক রসদ নিয়ে কী করবেন ট্রাম্প
যুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি আশা করেন ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদেরও সেটাই প্রত্যশা।
এর মানে দাঁড়ায়, চলমান সংঘাত মার্চের শেষদিকে চলতে থাকবে, যখন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।
সফরটি মূলত মূলত বাণিজ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে হওয়ার কথা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলতে থাকলে সেই সফরে যুদ্ধের আবহই সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান থাকবে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, যুদ্ধ নিয়ে দুটি সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ট্রাম্পকে ভাবিয়ে তুলেছে। প্রথমটি হলো, তিনি ইরানের খার্ক দ্বীপে স্থল অভিযানে যাবেন কিনা। দ্বিতীয়ত, তেহরানের হাতে থাকা পারমাণবিক বোমা তৈরির রসদের মীমাংসাটা কী হবে?
খার্ক বন্দরটি ইরানের তেল রপ্তানির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওই দ্বীপ থেকেই দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। যুক্তরাষ্ট্র এটি দখল করে নিলে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়ে যাবে।
সমুদ্রপথে সহজেই এই দ্বীপে পৌঁছনো যায়। ফলে সেখানে অবস্থান করা বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখাটা কঠিন।
আইআরজিসি বা স্থানীয় সশস্ত্র বাহিনী ছোট ছোট নৌযানের মাধ্যমেই সেখানে হামলা চালাতে সক্ষম।
ফলে দ্বীপটির আশপাশ সুরক্ষিত রাখতে যে সামরিক সক্ষমতা প্রয়োজন, সেটা করতে গিয়ে ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মধ্যে পড়ে যাবেন। কারণ, দেশের বাইরে স্থল অভিযানের ব্যাপারে ট্রাম্পের সমর্থকগোষ্ঠী খুব একটা আগ্রহী নয়।
ট্রাম্পের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো, ইরানের হাতে থাকা পারমাণবিক বোমা তৈরির রসদ ধ্বংস করা।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা— আইএইএর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ যে ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা ইস্পাহানে গভীর টানেলে সংরক্ষিত আছে।
এগুলো গ্যাসীয় অবস্থায় ক্যানিস্টারে রাখা আছে। এগুলো অল্প জায়গার মধ্যেই সংরক্ষণ করা সম্ভব। এই ইউরেনিয়াম যেসব টানেলে আছে, সেখানে প্রবেশ করাও সহজ নয়। এর মধ্যে গত জুনে মার্কিন অভিযানের সময় এসব টানেলের অনেক প্রবেশপথ ধসে গেছে।
এসব ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে হলে বিশেষ বাহিনীকে সেখানে ঢুকতে হবে। এজন্য কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।
ক্যানিস্টারগুলো সেখান থেকে বের করে আনাটাও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সেগুলোর ভেতরে আলো কিংবা আর্দ্রতা, যাই প্রবেশ করুক, তীব্র বিষাক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এগুলোকে পাশাপাশি রাখলেও বিক্রিয়া ঘটতে পারে।