যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি। তার মতে, এভাবে ইরান ‘খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না’। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। খবর রয়টার্সের।
ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা খুব শিগগির শেষ হবে। আমার মনে হয় না, তারা আর খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে।’ এ সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী কিছু অস্ত্রের মজুত–সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
গত মঙ্গলবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতাসম্পন্ন দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।
এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু নির্দিষ্ট ধরনের শক্তিশালী অস্ত্রের সীমাহীন মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আছে। তবে অন্য কিছু অস্ত্রের মজুত তুলনামূলকভাবে কম।’
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘বিপুল পরিমাণ’ অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলো নতুন নতুন উৎপাদন কারখানা তৈরি করছে। এর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাও আছে।
ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ পাচ্ছেন না ট্রাম্প
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধ শেষ করার যে দাবি ট্রাম্প শুরুতে করেছিলেন, সেখান থেকে সরে এসে চলমান কূটনৈতিক চেষ্টা ও হুমকি-পাল্টা হুমকির মুখে তিনি এখন চরম উভয় সংকটে পড়েছেন। ট্রাম্পের সামনে এখন বিকল্প মূলত দুটি।
একদিকে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যার ফলে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের যে কর্তৃত্ব ছিল না, তাও তারা পেয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্পের সামনে রয়েছে নতুন করে সামরিক হামলা জোরদার করার হুমকি বাস্তবায়নের সুযোগ, যা সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি প্রথম পথটি বেছে নেন, তবে যুদ্ধ শুরুর পর এটি হবে ইরানের সবচেয়ে বড় জয়। এর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ন্ত্রণ করার আনুষ্ঠানিক অধিকার পেয়ে যাবে ইরান। অথচ এই প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব আটকানোর অঙ্গীকার করেই যুদ্ধে নেমেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
দ্বিতীয় পথ হলো নতুন করে বিমান হামলা শুরু করা ট্রাম্পের জন্য নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এর আগের বিমান হামলাগুলো তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে হামলা চালিয়ে সফল হওয়ার কোনো নিশ্চয়তাও নেই।
ট্রাম্প চাইলে চলমান এই অস্বস্তিকর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে পারেন। যার অর্থ দাঁড়াবে, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি থাকবে এবং কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে সময়ে সময়ে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাবে মার্কিন বাহিনী। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার যে পূর্বাভাস ট্রাম্প দিয়েছিলেন, এই পথ বেছে নিলে সেখান থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার কোনো উপায় থাকবে না।