কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৮) হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ছয়জন ভাড়াটে খুনি জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের দুই চালককে গ্রেপ্তার ও তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সাদা মাইক্রোবাস এবং নিহত জিসানের একটি আইফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন, চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ লোটনী এলাকার আবু বক্করের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে কালু ড্রাইভার (৪৫) এবং ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাট ছগিরশাহকাটা এলাকার বাহাদুর আলমের ছেলে জিসাত মিয়া ওরফে শওকত ড্রাইভার (২৯)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে চকরিয়া থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল আজিজ।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার হোসেন হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও কিলিং মিশনে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার ভোরে জিসাত মিয়াকে রিংভং এলাকার তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে কাকারা ইউনিয়নের মাঝের স্টেশন এলাকা থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে জিসানকে তুলে নেয়া হয়। প্রায় চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী-কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল আজিজ বলেন, ঘটনার দিন রাতে জিসানকে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালের মাঠে প্রধান আসামি রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রাজিয়া জিসানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেছিলেন।
তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জিসান ও রাজিয়া সুলতানার মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পরে তাদের সম্পর্কে অবনতি হলে বিরোধ তৈরি হয়। এ ঘটনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ফোনে জিসানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
‘ছয় খুনি’ কারা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল আজিজ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তিমতে জিসান হত্যায় সরাসরি ছয়জন ভাড়াটে খুনি অংশ নিয়েছেন।
জিসানকে অপহরণের পর মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে বস্তা দিয়ে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ ও মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে ফেলে যায় খুনিরা।
হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সহ অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডে ছয়জন ভাড়াটে খুনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ধারণা করছি, নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছির। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ সেপ্টেম্বর জিসানের বড় ভাই কাইছার হামিদ বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দুই নারীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় কোনো আসামি এখনো গ্রেফতার হননি।