কক্সবাজার পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের পৃথক এ অভিযানে চোর, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকেও আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে চালানো এই সাঁড়াশি অভিযানে চিহ্নিত ৭ জন চোর ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারীরা হলো- পাহাড়তলী এলাকার সাইফুর রহমান (২৫) ও মোঃ ইউসুফ (২৮), কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খায়রুল আমিন (২২), পশ্চিম বাহারছড়ার আব্দুল হামিদ (৩৭), মোহাইর পাড়ার মোঃ আমির হোসেন ইমন (৩০) এবং চৌফলদণ্ডী এলাকার মোঃ রুবেল হোসেন (৩০) ও মোঃ হানিফ (২৫)।
একই অভিযানে পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব টেকপাড়া থেকে ১১০ পিস ইয়াবাসহ আরফিদুল ইসলাম ওরফে রনি (২৯) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া মাদক সেবনের অপরাধে পাহাড়তলীর আনোয়ার শাহ (২২) এবং বান্দরবানের অং ক্য থোই (২৮)কে আটক করা হয়।
অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে পেশকারপাড়ার মোঃ হেলাল (২০) ও বেলাল হোসেন (২১), পূর্ব মাছবাজারের চ চ রাখাইন (২০), টেকপাড়ার মোঃ জুবায়ের (২৪), মহেশখালীর কালারমারছড়ার মোঃ সোলায়মান (২৩) এবং ছোট মহেশখালীর দেলোয়ার (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পাশাপাশি পরোয়ানাভুক্ত ৪ পলাতক আসামি- বাদশা ঘোনার অলিউল হাসান (২৭), পূর্ব সিকদার পাড়ার নুরুল আবছার ওরফে রুবেল, পিএমখালীর বাংলা বাজারের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ওরফে আমাদি (৩১) ও পূর্ব টেকপাড়ার আরফিদুল ইসলাম (২৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, অপরাধ রুখতে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে শহর ও আশপাশ এলাকা থেকে ২৫ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ৯ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি ১৬ জনকে ভবিষ্যতে অপরাধে না জড়ানোর মুচলেকা নিয়ে স্ব-স্ব অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা সূত্র জানান, শহরের ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত সব আসামিকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।