উখিয়ায় তিন বছর বয়সী শিশু নুসাইবা নিখোঁজ হওয়ার চার দিন অতিবাহিত হলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটিকে ঘিরে মায়ের বুকফাটা কান্না ও পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ঘাটি পাড়া গ্রাম এলাকা থেকে ১৫ বছর বয়সী হৃদয় হাসান নামের এক কিশোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু নাই তাই নয়, গত এক সপ্তাহে রত্না পালংয়র ভালুকিয়া জাফর পল্লান পাড়ার মাসুদ মোহাম্মদ আরবিত (১৬) রাজা পালং ইউনিয়নের রেদোয়ান নিখোঁজ রয়েছে ।
জানা গেছে, উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া পালং গ্রামের মাঝেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান সওদাগরের তিন বছর বয়সী কন্যা নুসাইবা গত ১৯ জুন শুক্রবার থেকে নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের দাবি, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
শিশুটির পরিবার উখিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
নিখোঁজ নুসাইবার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার মেয়েকে জীবিত ফিরে পেতে চাই। চার দিন ধরে ঘুমাতে পারছি না। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হচ্ছে আমার সন্তান হয়তো কাঁদছে, আমাকে খুঁজছে।'
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সময়মতো উদ্ধার অভিযান ফলপ্রসূ না হওয়ায় অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ঘাটিরপাড়া এলাকার ১৫ বছর বয়সী কিশোর হৃদয় হাসানও নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তার পরিবারও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিখোঁজদের উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, নিখোঁজ শিশু ও কিশোরের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একটি শিশু চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সময়ে আরেক কিশোরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো উখিয়া অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত উদ্ধার অভিযান জোরদার, অপরাধীদের শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।